আঠারো বছর বয়সেই চোখে ঘোর লেগেছে
যেদিকে তাকাই দেখি সবদিক রঙিন
শিমুলে-পলাশে আগুন, কৃষ্ণচূড়ায় আগুন
মনে যে আগুন জ্বলে তাতেও যেন পুড়ে সুখ।
যৌবনের লম্বা বারান্দায় তখন জোছনা প্লাবন
কারো চাঁদমুখ দেখে চতুর্দশী চাঁদকেও ভোলা যায়
হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দেয়া যায়,
বর্ষার জলে ভিজলেও যেন পিয়াস মেটে না
শ্রাবণী মেয়েটির কথা ভেবে ঘুম আসে না--
কার্তিকে মাটির সোঁদা গন্ধে নেশা লাগে
সবুজে-শিশিরে পা ধুলে গা শিহরিত হয়
বাতাসে বাতাসে ফলবতী মাঠের সুঘ্রাণ খুঁজে পাই।
প্রৌঢ়ত্বের ঝুলবারান্দায় আজ সুঘ্রাণ খুঁজে মরি
স্মৃতি হাতড়ে ফিরি বিগতযৌবনের খাঁখাঁ মাঠে
পাই না খুঁজে ক্ষীয়মান দৃষ্টিতে, জিহ্বায় বিস্বাদে।