জনগণের উন্নয়ন ও দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে টিকিট বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এবং সীমান্তের ওপারে থাকা পলাতক শক্তি দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে এক হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, কিছু দল বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, তখন এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। জনগণের ক্ষতি হয়, এমন কর্মসূচি যারা দেয়, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল সরকারের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন হোক, তা চায় না। একটি দল ১৯৭১ সাল থেকে সুযোগ পেলেই দেশকে ভিন্ন পথে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ১৯৭১ সালের মতো ২০২৪ সালেও তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। অনেকে মুখে ২০২৪ সালের চেতনার কথা বললেও তা অন্তরে ধারণ করেন না।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-দুটিকেই ধারণ করে। দেশের ভবিষ্যৎ বিদেশ থেকে কেউ এসে গড়ে দেবে না; নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই পরিবর্তন করতে হবে। গত নির্বাচনে জনগণ যেভাবে পাশে ছিল, আগামী দিনগুলোতেও তেমন সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষি খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশের ৩৮ হাজার আখচাষিকে সরকার আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছে। কৃষক ও কৃষিকে বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। চলতি বছর ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষক কার্ড বিতরণের পরিকল্পনার কথাও জানান। তাঁর দাবি, গত আট মাসে সারা দেশে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, আগামী বছর ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ এবং অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
তারেক রহমান, রাজশাহীর জনসভা, দেশের উন্নয়ন