বুধবার, অক্টোবর ২১, ২০২৬

সেনেগালের আফকন শিরোপা বিতর্কের রায় নভেম্বরের শেষে

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-২০ ২১:০৩:০১
ফাইল ছবি

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) শিরোপা পুনরুদ্ধারে সেনেগালের করা আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশ করবে ক্রীড়া সালিশি আদালত (সিএএস)। সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর ২০২৬ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হবে।
গত জানুয়ারিতে মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত আফকন ফাইনালে স্বাগতিকদের অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে মাঠে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেনেগাল। তবে ম্যাচের শেষ দিকে বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের খেলোয়াড়েরা প্রায় ১৪ মিনিট মাঠ ছেড়ে থাকায় পরবর্তী সময়ে ম্যাচের ফল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
নিয়মিত সময়ের শেষ দিকে সেনেগালের বিপক্ষে পেনাল্টি দেওয়া হলে দলটির খেলোয়াড়েরা প্রতিবাদ জানিয়ে মাঠ ত্যাগ করেন। কয়েকজন ড্রেসিংরুমেও চলে যান। পরে তাঁরা ফিরে এলে খেলা আবার শুরু হয়। মরক্কো পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। সেখানে জয়সূচক গোল করে সেনেগাল।
কিন্তু প্রায় দুই মাস পর আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিএএফ) আপিল বোর্ড সিদ্ধান্ত দেয়, মাঠ ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে সেনেগাল ম্যাচ পরিত্যাগ করেছে। ফলে মাঠের ফল বাতিল করে মরক্কোকে ৩-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করা হয় এবং তাদের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ২৫ মার্চ সিএএসে আপিল করে সেনেগাল। গত ৮ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের লোজানে সেনেগাল, মরক্কো ও সিএএফের যুক্তি শুনেছে আদালত। শুরুতে দ্রুত সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা থাকলেও এখন সংক্ষিপ্ত ঘোষণা না দিয়ে আইনি ব্যাখ্যাসহ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সেনেগালের প্রধান যুক্তি, রেফারির সিদ্ধান্তই ম্যাচ পরিচালনার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত এবং তিনি খেলা শেষ করতে দিয়েছিলেন। তাই মাঠের ফল পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে দাবি করছে দলটি।
সিএএসের মহাপরিচালক ম্যাথিউ রিব বলেন, ফাইনালের পর থেকে সমর্থকদের অপেক্ষা দীর্ঘ হয়েছে। তাঁর মতে, ঘটনার বিবরণ স্পষ্ট হলেও মামলার নিষ্পত্তিতে মূলত প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয়গুলো বিবেচনায় আসবে।
মামলাটির তিন সদস্যের প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন ফরাসি ক্রীড়া আইন বিশেষজ্ঞ জেরাল্ড সিমন। অন্য দুই সদস্য হলেন আন্তর্জাতিক আইন অধ্যাপক লুইজি ফুমাগাল্লি এবং আইনজীবী ও জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উলরিখ হাস।
সিএএসের সিদ্ধান্ত ‘অ্যাওয়ার্ড’ নামে পরিচিত এবং ক্রীড়াঙ্গনে এর আইনি গুরুত্ব রয়েছে। প্রযোজ্য নিয়ম ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এমন রায় সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থা কিংবা আদালতের মাধ্যমে কার্যকর হতে পারে।

সেনেগাল, আফকন শিরোপা বিতর্ক, ক্রীড়া সালিশি আদাল


এ জাতীয় আরো খবর