সোমবার, অক্টোবর ১৯, ২০২৬

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই আগামীর অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-১০-১৮ ১৪:৩৯:৫৩
ছবি: সংগৃহীত।

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষা করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলের ওপর নির্ভর করে না। শৃঙ্খলা, দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ, জনগণের আস্থা এবং নির্দেশনার ধারাবাহিকতা এর প্রকৃত শক্তির ভিত্তি।
তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা একটি ইউনিটের পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতির পাশাপাশি তার ইতিহাস, ঐতিহ্য, আত্মত্যাগ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের প্রতীক। এই সম্মান অর্জনের মধ্য দিয়ে অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার নতুন করে নিতে হয়।
মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহের ঘোষণা দিয়ে বাঙালি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের সশস্ত্র প্রতিরোধে সংগঠিত করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমান ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা দেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাহিনীর সব পর্যায়ের সদস্যকে সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকতে হবে।
বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার পরিসর, মহাকাশ, চালকবিহীন উড়োজাহাজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এ বাস্তবতায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম দেশে উৎপাদনের জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। কারণ, প্রযুক্তি কখনো মানুষের বিকল্প হতে পারে না।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও তারা সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী নিরাপত্তার বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় পে-স্কেলে বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ইতোমধ্যে ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক প্রতিনিধিসহ সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সার্বভৌমত্ব, সশস্ত্র বাহিনী, প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন


এ জাতীয় আরো খবর