দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থকে সবার আগে স্থান দিতে পারলে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যেই গড়ে তুলতে হবে সবার বাংলাদেশ।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত যুব স্বেচ্ছাসেবক পুরস্কার ২০২৬ ও অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা এ তথ্য জানান।
তারেক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু তরুণ নিজেদের পড়াশোনা ও পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি স্বেচ্ছায় মানুষের সেবায় কাজ করছেন। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ ও অবদান দেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।
পুরস্কারপ্রাপ্ত তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের অগ্রগতি ও বড় ধরনের পরিবর্তনে যুবসমাজের শক্তি, সাহস, মেধা এবং উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি তরুণদের সক্রিয় অবদানের কথা উল্লেখ করেন। এই শক্তিকে জাতীয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব প্রতিশ্রুতি এখন শুধু সরকারের নয়, দেশের মানুষেরও। তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রতিভাবান যুবকদের সম্ভাবনা বিকাশে সরকার একটি উদ্যোগ তহবিল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এ জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে যার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, মেধা ও কর্মস্পৃহাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে। ব্যক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের কথাও যুবসমাজকে ভাবতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৫ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধির হাতে যুব স্বেচ্ছাসেবক পুরস্কার ২০২৬ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যেক পুরস্কারপ্রাপ্তকে এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক ও সনদ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া দেশের ৪৩২টি যুব সংগঠনকে কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য দুই লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনজন অনুষ্ঠানে নিজেদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তরুণদের জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সবার আগে ও সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।
যুবসমাজ, স্বেচ্ছাসেবক পুরস্কার, তারেক রহমান