বন্ধুরা,আজ প্রকাশিত হল পর্ব-৩৮। গত পর্বে রাহি,অরণ ও শিসু বুঝেছিল যে রাতের সেই অচেনা অতিথি আসলে একটি পেঁচা। কিন্তু আজ তারা আবিষ্কার করবে,পেঁচাটি শুধু শিকারি নয়-সে যেন প্রকৃতির এক নীরব প্রহরী।
রাহি ও অরণের সবুজ পৃথিবী
'প্রকৃতির গোয়েন্দারা'
পর্ব–৩৮:
সারা দিন আকাশ ছিল মেঘলা।
সন্ধ্যা নামতেই চারদিকে নেমে এল নরম অন্ধকার।
রাহি জানত,আজ আবার পেঁচাটির দেখা পাওয়া যেতে পারে। তাই অরণ আর শিসুকে নিয়ে সে গ্রামের ধানের মাঠের দিকে রওনা দিল।
বটদাদুর কথা তাদের মনে আছে।
'প্রকৃতিকে দেখতে হলে তাকে বিরক্ত করা যাবে না।'
তাই তারা দূরে একটি উঁচু বাঁধের ওপর চুপচাপ বসে রইল।
চারদিকে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক।
মাঝে মাঝে জোনাকির আলো।
হঠাৎ একটি ধানের ক্ষেতে খসখস শব্দ হলো।
শিসু ফিসফিস করে বলল,
-'ওটা কী?'
অরণ দূরবীন তুলে তাকাল।
-'একটা বড় ইঁদুর।'
ইঁদুরটি ধানের শিষ কেটে নিয়ে দৌড়াতে শুরু করল।
ঠিক তখনই...
নিঃশব্দে আকাশ থেকে নেমে এল সেই পেঁচাটি।
এক মুহূর্ত।
তারপর আবার ডানা মেলে উড়ে গেল।
ইঁদুরটি আর দেখা গেল না।
রাহি বিস্ময়ে বলল,
-'এত দ্রুত! আমি ঠিকমতো দেখতেই পারলাম না।'
ঠিক তখনই বাতাসে বটপাতার মৃদু শব্দ শোনা গেল।
বটদাদুর কণ্ঠ ভেসে এলো,
-'পেঁচার ডানায় বিশেষ ধরনের নরম পালক থাকে। তাই উড়ার সময় প্রায় কোনো শব্দই হয় না। এটাই তাকে দক্ষ শিকারি বানিয়েছে।'
অরণ খাতায় লিখল,
'নতুন তথ্য-নিঃশব্দে উড়তে পারে।'
শিসু যোগ করল,
-'তাই ইঁদুর আগে থেকে বুঝতেই পারে না।'
এমন সময় পাশের ক্ষেত থেকে কৃষক রহমান চাচা এগিয়ে এলেন।
তিনি হাসতে হাসতে বললেন,
-'তোমরা জানো,আগে আমি পেঁচাকে তাড়িয়ে দিতাম। পরে কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে শুনলাম,ওরা না থাকলে ইঁদুরে ফসলের অনেক ক্ষতি হতো। এখন আমি ওদের কখনো বিরক্ত করি না।'
রাহি বলল,
-'তাহলে পেঁচা শুধু নিজের জন্য শিকার করে না,আমাদেরও উপকার করে।'
রহমান চাচা মাথা নাড়লেন।
-'প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণীরই একটি কাজ আছে। আমরা সেটা না জানলেই ভুল বুঝি।'
হঠাৎ শিসু আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
-'দেখো! আরেকটা পেঁচা!'
দূরের তালগাছের মাথায় আরেকটি পেঁচা বসে আছে।
কিছুক্ষণ পর দুটিই অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
ফেরার পথে রাহি বলল,
-'আজ বুঝলাম,রাত শুধু অন্ধকার নয়। রাতেরও নিজস্ব জীবন আছে।'
অরণ মৃদু হেসে বলল,
-'আর সেই জীবনেরও আছে নীরব রক্ষক।'
বটদাদুর কণ্ঠ শেষবারের মতো ভেসে এলো,
'প্রকৃতিকে যারা মন দিয়ে দেখে,তারা জানে-দিন আর রাত দুটোই পৃথিবীর জন্য সমান প্রয়োজনীয়।'
সেদিন রাতে শিসু তার ডায়েরিতে লিখল,
'আজ আমি অন্ধকারকে আর ভয় পাই না। কারণ জানি,অন্ধকারেও প্রকৃতির বন্ধুদের ব্যস্ততা থেমে থাকে না।'
আজকের সবুজ প্রতিজ্ঞাঃ
আমি কোনো প্রাণী সম্পর্কে গুজব বা কুসংস্কারে বিশ্বাস করব না। আগে জানব,তারপর অন্যদেরও সঠিক তথ্য জানাব।
সবুজ তথ্যঃ
পেঁচার শ্রবণশক্তি ও রাতের দৃষ্টি খুবই প্রখর। কম আলোতেও তারা শিকার খুঁজে পায় এবং কৃষিজমিতে ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পেঁচা জীববৈচিত্র্য ও কৃষি-দুই ক্ষেত্রেই উপকারী।
চলবে...
বন্ধুরা, আগামীকাল পর্ব-৩৯ হবে এই রহস্যের সমাপ্তি। সেখানে গ্রামের মানুষ কুসংস্কার ছেড়ে পেঁচার জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে। গল্পের শেষে শিশুদের মনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছাবে-'যাকে না জেনে ভয় পাই,তাকে জেনে ভালোবাসাও সম্ভব।'