মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬

'হারিয়ে যাওয়া কোকিলের গান'

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৭-২০ ১৩:০৯:৫৭
ফাইল ছবি

বন্ধুরা, আজ শুরু হচ্ছে আমাদের নতুন রহস্য।এতে তোমরা যেমন রোমাঞ্চ পাবে,তেমনি প্রকৃতি সম্পর্কেও নতুন কিছু শিখবে।

রাহি ও অরণের সবুজ পৃথিবী
'প্রকৃতির গোয়েন্দারা'
পর্ব-৩৪:

বসন্ত চলে গেছে অনেক দিন।

তবু এক অদ্ভুত বিষয় রাহির মনে খচখচ করছে।
-'অরণ, তুমি কি খেয়াল করেছ?'
-'কী?'
-'এ বছর আমি একবারও কোকিলের ডাক শুনিনি।'

অরণ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
-'আমিও তো শুনিনি!'

ঠিক তখনই শিসু দৌড়াতে দৌড়াতে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
-'আমি আজ ভোরে আমবাগানে গিয়েছিলাম। শালিক আছে,দোয়েল আছে,বুলবুলিও আছে। কিন্তু কোকিল নেই।'

তিনজনের চোখে চোখ পড়ল।

নতুন রহস্য!

তারা সোজা চলে গেল সেই পুরোনো বটগাছের নিচে।
হালকা বাতাসে পাতাগুলো নড়ে উঠতেই ভেসে এলো বটদাদুর স্নেহমাখা কণ্ঠ।
-'তোমরা কি নতুন কোনো প্রশ্ন নিয়ে এসেছ?'

রাহি বলল,
-'বটদাদু,কোকিলগুলো কোথায় গেল?'

বটদাদু কিছুক্ষণ নীরব রইলেন।
তারপর ধীরে বললেন,
-'প্রকৃতির কোনো গান হঠাৎ থেমে গেলে,তার পেছনে নিশ্চয়ই একটি কারণ থাকে।'

অরণ নোটবই বের করল।
প্রথম পাতায় লিখল-
'রহস্য নম্বর-২'
'হারিয়ে যাওয়া কোকিলের গান'

ঠিক তখনই আমবাগানের মালিক রহিম চাচা সেখানে এলেন।
তিনি বললেন,
-'ছোটবেলায় এই সময়ে ভোর হলেই কোকিলের ডাকে ঘুম ভাঙত। এখন সেই ডাক খুব কম শোনা যায়।'

রাহি জিজ্ঞেস করল,
-'কেন এমন হলো?'

রহিম চাচা মাথা নাড়লেন।
-'আমি নিশ্চিত নই। তবে আগের মতো বড় বড় গাছও তো আর নেই।'

শিসু চারদিকে তাকাল।
সত্যিই তো!
অনেক পুরোনো গাছ কেটে সেখানে নতুন ঘর তৈরি হয়েছে।
কিছু জায়গায় খালি জমি।
কোথাও আবার শুধু ছোট ছোট গাছ।

বটদাদু বললেন,
-'সব পাখি সব গাছে বাস করতে পারে না। কিছু পাখির জন্য বড়,পুরোনো এবং নিরাপদ গাছ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'

ঠিক তখনই দূরে একটি কালো পাখি উড়ে গেল।
শিসু চিৎকার করে বলল,
-'ওই যে কোকিল!'

অরণ দ্রুত দূরবীন তুলে তাকাল।
কিন্তু না।
ওটি ছিল একটি ফিঙে।
সবাই একটু হেসে ফেলল।

রাহি বলল,
-'তা হলে আমাদের আরও খুঁজতে হবে।'

বিকেলের দিকে তারা গ্রামের প্রবীণ শিক্ষক আবদুল করিম স্যারের সঙ্গে দেখা করল।
স্যার বললেন,
-'কোকিল শুধু গান গায় না। সে প্রকৃতির ঋতু পরিবর্তনেরও এক পরিচিত বার্তাবাহক। তার সংখ্যা কমে গেলে কারণ খুঁজে দেখা দরকার।'

রাহি খাতায় নতুন একটি লাইন লিখল-
'সূত্র এক-পুরোনো গাছ কমে গেছে।'

অরণ লিখল-
'সূত্র দুই-কোকিলের পরিচিত আবাস বদলে যাচ্ছে।'

শিসু খাতার নিচে বড় করে লিখল-
'রহস্য এখনো শেষ হয়নি!'

ঠিক তখনই পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবতে শুরু করল।
হঠাৎ খুব দূর থেকে ভেসে এলো একটি ক্ষীণ সুর।
'কুহু... কুহু...'
তিন বন্ধু একসঙ্গে থেমে গেল।

রাহি ফিসফিস করে বলল,
-'তোমরা শুনলে?'
অরণ মাথা নাড়ল।
শিসুর চোখ আনন্দে চকচক করছে।
কিন্তু শব্দটি আবার থেমে গেল।

কোথা থেকে এল সেই ডাক?
সত্যিই কি সেটা কোকিল ছিল?
নাকি অন্য কোনো রহস্য তাদের অপেক্ষায় আছে?

বটদাদুর কণ্ঠ আবার ভেসে এলো-
-'প্রকৃতির সব প্রশ্নের উত্তর একদিনে পাওয়া যায় না। যারা ধৈর্য ধরে খোঁজে,প্রকৃতি একদিন তাদেরই সত্যটা দেখায়।'

আজকের সবুজ প্রতিজ্ঞাঃ
আমি অকারণে কোনো গাছ কাটব না এবং আমার আশপাশের পাখিদের নিরাপদ আবাস রক্ষায় সচেতন থাকব।

সবুজ তথ্যঃ
কোকিল সাধারণত বড় গাছসমৃদ্ধ এলাকায় বেশি দেখা যায়। গাছপালা কমে গেলে অনেক পাখির মতো কোকিলের উপস্থিতিও কমে যেতে পারে। তাই পাখি রক্ষা করতে হলে তাদের আবাসস্থলও রক্ষা করতে হবে।


বন্ধুরা,এবার আমরা শুধু কোকিলকে খুঁজব না,পাখির আবাস,ঋতু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্যের সম্পর্কও গল্পের মধ্য দিয়ে জানবো।


এ জাতীয় আরো খবর