স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের পর এবার বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী রোববার তিনি পরিবারসহ রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে স্থানান্তরিত হবেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) পরিবারের এক সদস্য গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বঙ্গভবন ত্যাগের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তিনি পরিবারসহ নতুন ঠিকানায় চলে যাবেন।
এর আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাংবিধানিক মর্যাদা ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেলেও, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে অবসরভাতা ও অন্যান্য নির্ধারিত সুবিধা পাওয়ার অধিকারী থাকবেন।
২০১৬ সালের ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা,আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন অনুযায়ী,রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে অন্তত ছয় মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষে অবসর নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আজীবন অবসরভাতা এবং আইন নির্ধারিত অন্যান্য সুবিধা ভোগ করতে পারেন। দুই বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করায় মো. সাহাবুদ্দিনও এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।
তবে পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা,সরকারি যানবাহন,রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বা অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা বিদ্যমান সরকারি নীতিমালা ও পৃথক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আন্দোলন ও দাবি উত্থাপিত হচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।
রাষ্ট্রপতি, বঙ্গভবন, গুলশান