শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে পদ্মাসহ ৪ নদীর পানি,কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে নদীভাঙ্গন

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৭-২৪ ২০:১৬:৩৭

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে  গত ১৫ দিন ধরে বাড়ছে পদ্মা,মহানন্দা,পূণর্ভবা,পাগলা সহ নদ-নদীর পানি। এখনও বিপৎসীমার অনেক নীচে প্রবাহিত হলেও পানি বৃদ্ধির হার বেশ দ্রুত। পানি বৃদ্ধিও সাথে সাথে বিশেষ করে সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন  এলাকায় শুরু হয়েছে পদ্মা নদীর তীর ভাঙ্গণ।  ভাঙ্গণ  সাময়িক ঠেকাতে কোথাও কোথাও ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ।
জেলা পানি উন্নয়ন বোড (পাউবো) সূত্র বলছে,গত ১০ জুলাই থেকে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। মৌসুমী এই বৃদ্ধি স্বাভাবিক। উজানে ভারতে বৃষ্টি  ও ধেয়ে আসা পানির ঢল এর মূল কারণ। এর সাথে যোগ হয়েছে দেশে মৌসুমী বৃষ্টিপাত।
দেশের সর্ব উজানের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তঘেঁষা ফারাক্কা বর্ঁাধের অদুরে পদ্মানদীর  বাংলাদেশের পাংখা পয়েন্টে পদ্মার বিপৎসীমা ২২.০৫ মিটার। শুক্রবার(২৪জুলাই) সকালে ওই পয়েন্টে পানি ১৮.৪৯ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। বিগত ২৪ ঘন্টায় প্রবাহ ৯ সেমি বেড়েছে। গত ১০ জুলাই এই পয়েন্টে পানি ১৪.৮৭ মিটারে প্রবাহিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ঘেঁষা মহানন্দা নদীর বিপৎসীমা ২০.৫৫ মিটার। শুক্রবার মহানন্দা ১৭.০৩ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছিল। ২৪ ঘন্টায় প্রবাহ ১৭ সেমি বেড়েছে। ১০ জুলাই এই নদী ১৩.৭৪ মিটারে প্রবাহিত হয়। জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুরে পূণর্ভবা নদীর বিপৎসীমা ২১.৫৫ মিটার। শুক্রবার এই নদী প্রবাহিত হচ্ছিল ১৭.৮৬ মিটারে। ২৪ ঘন্টায় প্রবাহ বেড়েছে ২৩ সেমি। ১৪ জুলাই এই নদী ১৪.৭১ মিটারে প্রবাহিত হয়।
শিবগঞ্জের দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম বলেন, পদ্মাপাড়ের খাকসাপাড়া,মনোহরপুর,দোভাগি ঘাইপাড়া এলাকায় ভাঙ্গণ তীব্র। খাকসাপাড়া থেকে ৮টি পরিবার সরিয়ে নিতে হয়েছে। কিছু পটলের জমি নেমে গেছে। এসব স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
শিবগঞ্জের পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ৫ নং ওয়ার্ড ক্রমাগত ভেঙ্গে পদ্মায় প্রায় বিলীন হয়েছে।  এখন ৮ নং ওয়ার্ডে ভাঙ্গণ চলছে। গত চৈত্র মাস থেকে  এসব এলাকার শতাধিক বাড়ি সরিয়ে নেয়া হয়েছে।  সদরের নারয়ানপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন বলেন, পদ্মাপড়ের ১,৩,৬,৭ নং ওয়ার্ডে পুরাতন ভাঙ্গণ আবার শুরু হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী এস.এম আহসান হাবাীব্ বলেন, ভারত থেকে আসা পানির কারনেই  জেলার নদীগুলোর পানি বাড়ছে। তবে মৌসুমী এই বৃদ্ধির জন্য এখনও  কোন আশংকা তৈরী হয় নি। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র কোন সতর্কতা জারি করেনি। ভাঙ্গন সম্পর্কে তিনি বলেন, ৭৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার উভয়তীর  স্থায়ীভাবে রক্ষার একটি কাজ  শীঘ্রই শুরু হবে। পানি বাড়া ও কমার সময় নদী ভাঙ্গে বলেও জানান তিনি। ্


এ জাতীয় আরো খবর