গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শনিবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্পিকারের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও করা হয়েছে। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে 'Autonomic Neuropathy' রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার কারণে তিনি মাঝেমধ্যে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন।
পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি মানসিক সক্ষমতাও আগের মতো নেই। ফলে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।
রাষ্ট্রপতি, পদত্যাগ, স্পিকার