মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের ৫০টি যুদ্ধবিমান ইরাকের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২০ জুন) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের ঠিক আগে এ অনুপ্রবেশ ঘটে বলে দাবি করেছে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরাকি মিশন।
ইরাকের জাতিসংঘ মিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আব্বাস কাদোম ওবায়েদ আল-ফাতলাভি নিরাপত্তা পরিষদে এই তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া-জর্ডান সীমান্ত থেকে প্রবেশ করে ইরাকের আকাশে গভীরভাবে ঢুকে পড়ে। প্রথম দফায় ২০টি ও পরে আরও ৩০টি বিমান বসরা, নাজাফ এবং কারবালা শহরের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।
আল-ফাতলাভি একে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “পবিত্র নগরীর আকাশে যুদ্ধবিমান উড়ে বেড়ানো ইরাকি জনগণের জন্য শুধু নিরাপত্তাজনিত হুমকিই নয়, চরম ধর্মীয় ও মানসিক আঘাতও। এ ধরনের আগ্রাসন গোটা অঞ্চলে আরও সহিংসতা ছড়িয়ে দিতে পারে।”
ইরাকের ইতিহাস ও পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নাজাফ ও কারবালা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র শহর। এসব শহরের ওপর দিয়ে ইসরাইলি বিমান উড়ে যাওয়া শুধু ইরাক নয়, গোটা মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভের সঞ্চার করতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরাকি মিশন।
আল-ফাতলাভি বলেন, “আমাদের জাতির আত্মপরিচয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধে এই শহরগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম। এসব এলাকার ওপর আকাশসীমা লঙ্ঘন শুধু আইনগত নয়, এটি একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক আগ্রাসন।”
এই ঘটনাকে ইসরাইল ও ইরানের চলমান উত্তেজনার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ১৩ জুন থেকে ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরাইলের হামলার পর পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। দুই পক্ষের এই প্রতিক্রিয়া-পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাতের ছায়া ঘনিয়ে আসছে।
ইরাক, যেটি এই দুই আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে, তাদের ভূখণ্ড এই উত্তেজনার মধ্য দিয়ে আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে।
ইরাক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলে ধরলেও এখন পর্যন্ত ইসরাইলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সদস্যরা পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে ইরাকের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ-বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক এবং মিশরও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইসরাইল-ইরান উত্তেজনার মাঝখানে পড়ে যে ইরাক নতুন করে সংঘাতের শঙ্কায় রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে ইসরাইলি যুদ্ধবিমানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায়। এ ঘটনায় যদি আন্তর্জাতিক মহল নীরব থাকে, তাহলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সংক্ষেপে:
তারিখ: ২০ জুন
আকাশসীমা লঙ্ঘনকারী বিমান: ইসরাইলের ৫০টি যুদ্ধবিমান
অবস্থান: বসরা, নাজাফ, কারবালা
প্রতিক্রিয়া: জাতিসংঘে ইরাকের প্রতিবাদ, মুসলিম বিশ্বের উদ্বেগ
পটভূমি: ইসরাইল-ইরান চলমান সামরিক উত্তেজনা