সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

পশ্চিম তীরে দুই মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ,উত্তেজনা আরও বাড়ছে

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৬-০৭-২৭ ০৮:৪৬:১৪

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে দুটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। সপ্তাহজুড়ে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হওয়ার পর রোববার রাতের এ ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নাবলুসের দক্ষিণে কুসরা শহরের একটি নির্মাণাধীন মসজিদে আগুন লাগিয়ে দেয় একদল বসতি স্থাপনকারী। এতে মসজিদের প্রবেশপথ ও নির্মাণাধীন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীরা দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’সহ বিভিন্ন স্লোগানও লিখে যায়।
কুসরার মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি জানান, আগুনে মসজিদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে এবং ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পর সেনারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে সন্দেহভাজনরা পালিয়ে যায়। সেখানে অগ্নিসংযোগ ও দেয়ালে লেখা স্লোগানের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত করবে ইসরাইলি পুলিশ।
এদিকে ফিলিস্তিনের ওয়াক্ফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, তুলকারেমের কুর গ্রামেও আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদের দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগানও লেখা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
এর আগে শুক্রবার পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি এবং দুই ইসরাইলি নিহত হন। এরপর নাবলুস ও আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। তারা এটিকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ উল্লেখ করে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে আটকের তথ্য জানিয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে শনিবার নাবলুসে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। জ্বালানি সংকটের কারণে বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ যানবাহনের সারিও দেখা গেছে।
ফিলিস্তিনি সূত্রের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের অভিযানে যোদ্ধাসহ অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত পাঁচ লক্ষাধিক ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন।

পশ্চিমতীর, মসজিদ, অগ্নিসংযোগ


এ জাতীয় আরো খবর