রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হবে বাংলাদেশের নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৬-০৭-২৫ ১৪:৫৯:৪৭
ছবি: সংগৃহীত।

তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিশ্ব প্রযুক্তি খাতে দ্রুত পরিবর্তনের এই সময়ে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের যুগে সেমিকন্ডাক্টর ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি কল্পনাই করা যায় না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা প্রযুক্তি, স্মার্টফোন থেকে শুরু করে মহাকাশ প্রযুক্তি-সব ক্ষেত্রেই সেমিকন্ডাক্টর অপরিহার্য।

ছবি : পিএমও
তিনি জানান, বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যেই এর বাজারমূল্য প্রায় এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারপ্রধান বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ খাতের বিকাশ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প উদ্যোক্তা, বেসরকারি খাত এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টাই এই লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি।
খাতটির বিকাশে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি বাজেটে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কাঁচামালের ওপর সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে সরকার প্রথমবারের মতো বছরে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ অনুদান চালু করেছে বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে এই অনুদান বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে শুল্কমুক্ত বন্ডেড সুবিধা, আধুনিক অবকাঠামো এবং হাই-টেক পার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পাশাপাশি একটি নতুন বায়োটেক পার্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্পে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই সামিট নতুন গবেষণা, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা দেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতকে আরও এগিয়ে নেবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং সামিটে অংশ নেওয়া দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি প্রদর্শনীতে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি ও ডিপ-টেকভিত্তিক ৩৫টি স্টল পরিদর্শন করেন।

সেমিকন্ডাক্টর, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ


এ জাতীয় আরো খবর