"আবুধাবি গেলে হবে কীভাবে?"-এই প্রশ্নটি গত কয়েক বছর ধরে হাজারো বাংলাদেশির মন খুঁড়ে বেড়াচ্ছিল। এক সময় যেখানে দুবাই ছিল মধ্যপ্রাচ্য অভিবাসনের প্রধান প্রবেশদ্বার, সেই আমিরাতই হয়ে উঠেছিল নিষেধাজ্ঞার প্রতীক। তবে অবশেষে সেই নিষেধাজ্ঞার দেয়াল ভেঙে নতুন করে খুলে গেল ‘পর্যটন সম্ভাবনার দরজা’।
দীর্ঘ কূটনৈতিক টানাপোড়েন, চুপিচুপি আলোচনার টেবিল, মন্ত্রিপর্যায়ের সফর আর কৌশলী কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপের পর ইউএই এখন বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন (ভিজিট) ভিসা সীমিত পরিসরে চালু করেছে।
যেখানে নিষেধাজ্ঞা ছিল,সেখানে এখন প্রতিদিন ৫০টি নতুন সম্ভাবনা
দীর্ঘদিন পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঢাকাস্থ দূতাবাস থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০টি পর্যটন ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে। যদিও সংখ্যাটি সীমিত, কিন্তু এর প্রতিটি একটি করে জীবনের গল্প, পুনর্মিলনের সুযোগ এবং ব্যবসার দ্বার খোলার সম্ভাবনা।
রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আল-হামুদি নিজেই এ তথ্য দিয়েছেন, ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে। যেখানে শুধুই কূটনৈতিক শিষ্টাচার নয়, উঠে এসেছে বিশেষ দূতের সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতার প্রশংসাও।
ভিসা খোলার পেছনে যা ছিল: অর্ধ-ডজনের বেশি ‘নীরব’ মন্ত্রিপর্যায়ের সফর
সাধারণ মানুষের চোখে না পড়লেও, ইউএই সরকারের সঙ্গে গত মাসগুলোতে অর্ধ-ডজন মন্ত্রিপর্যায়ের সফর হয়েছে, যার বিষয়বস্তু ছিল-ভিসা নিষেধাজ্ঞা শিথিল, বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং শ্রম বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
এই সফরগুলো ছিল 'লোকচক্ষুর আড়ালে, কিন্তু ইতিহাসের ভেতরে'। ফলে শুধু পর্যটন নয়, ইউএই এখন দক্ষ কর্মী নিয়োগের জন্য অনলাইন সিস্টেমও চালু করেছে, যা মার্কেটিং ম্যানেজার, হোটেল কর্মী ও সিকিউরিটি গার্ডদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যুর পথ তৈরি করেছে।
ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি: শুধু ভিসা নয়, আসছে ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ও
পর্যটন ভিসা চালু হওয়া যেন কেবল একটি ‘শুরু’। কারণ আলোচনায় উঠে এসেছে CEPA বা সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সম্ভাবনা, যা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-আমিরাত সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
এই মাসের শেষের দিকে ইউএই’র উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রিসভা প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসছে, যেখানে আরও বিনিয়োগ, ট্রেড পার্টনারশিপ ও শ্রম সহযোগিতা চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘ফিরে দেখা অতীত, সামনের দিকে আশাবাদের চোখ’: আমিরাত ভিসা ফিরে আসার অর্থ কী?
যেখানে এক সময় দুবাইমুখী শ্রমিকরা বিমানবন্দরে ফিরে আসতেন কান্না নিয়ে, এখন সেই পথ আবার খুলছে। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাংলাদেশিদের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার পুনর্গঠন।
এর অর্থ—
বিদেশগামী শ্রমবাজারে নতুন দিগন্ত,
ছুটিতে পরিবার দেখা কিংবা চিকিৎসার সুযোগ,
এবং বিশ্ববাসীর চোখে বাংলাদেশকে 'বিশ্বস্ত অংশীদার' হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রমাণ।
আরও দরজা খুলবে, যদি কূটনীতি জেগে থাকে
পর্যটন ভিসা চালু হওয়ার ঘটনা নিছকই একটি ‘নিউজ আইটেম’ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি উদাহরণযোগ্য বিজয়, যা নীরবতায় রচিত হয়েছে, কিন্তু ফল দিয়েছে গর্জনে।
এখন সময় এই বার্তাটি স্পষ্ট করে তোলার: 'বাংলাদেশ একা নয়, এবং আগ্রহীরা আবার আসতে পারে।'