সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

আফ্রিকার দ্রুততম মানবী ছিলেন ব্রিটিশ নার্স রোজ আমাঙ্কওয়াহ

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৪-০৩-২৪ ২২:২৩:০২

একজন ব্রিটিশ নার্স রোজ আমাঙ্কওয়াহ। যিনি তাঁর গৌরবোজ¦ল কর্মজীবন শেষ করে অবসরগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এর বাইরেও তাঁর আরও একটি বড় পরিচয় রয়েছে। একসময় তিনি আফ্রিকার দ্রুততম মানবী ছিলেন। 
রোজ আমাঙ্কওয়াহ বর্তমান বয়স ৭২ বছর। তিনি লন্ডনের সেন্ট্রাল মিডলসেক্স হাসপাতালে রোগীদের সেবা করে এসেছেন। এ বছরের মার্চে তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে।১৯৭৫ সালে তিনি লন্ডনে নার্সিং পেশা শুরু করেন। এর আগে তিনি আফ্রিকা অঞ্চলের একজন সফল অ্যাথলেট ছিলেন। 
১৯৭৩ সাল। সেসময় আফ্রিকা গেমসে তিনি নাইজেরিয়ার হয়ে আফ্রিকা গেমসে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। সব প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ১০০ মিটার দৌড়ে রৌপ্য জিতেছিলেন। সেবছর তাঁর ঝুলিতে যুক্ত হয়েছিলো আরও বড় পুরষ্কার। আফ্রো-ল্যাটিন আমেরিকান গেমসে মেক্সিকোতে সোনা জিতেছিলেন।
লন্ডনে কর্মজীবন শুরু করার আগে আরও একটি পুরুষ্কার জেতেন তিনি। যেটি তিনি জয় করেছিলেন কমনওয়েলথ গেমসে। নিউজিল্যান্ডে ১৯৭৪ সালে এ প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন।
সম্প্রতি রোজকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সেখানে ক্রীড়াবিদ হওয়াটাকে তিনি সৌভাগ্যের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমি খেলাধুলা উপভোগ করি। এখনও টেলিভিশনে খেলা দেখি। বিশেষ করে ডায়মন্ড লীগ, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, অলিম্পিক এসব দেখা হয়। বলা যায় আমি খেলাধূলার মধ্যেই থাকি। 
ছোটবেলা থেকেই খেলাধূলায় রোজের আগ্রহ ছিলো প্রবল। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি বুঝতে পারি আমার মধ্যে খেলাধূলার জন্য বিশেষ প্রতিভা রয়েছে। স্কুল প্রতিযোগীতায় আমি অনেক পদক পেয়েছি। শুধু বিদ্যালয়ের প্রতিযোগাতেই নয়, ঘানার বিভিন্ন টুর্নামেন্টেও আমি পদক জিতেছি। 
তিনি তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনে একজন কোচের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। যিনি তাকে ভালো দৌড়াতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি বলেন, মিস্টার লসন নামে একজন প্রশিক্ষক দীর্ঘ লাফ এবং উচ্চ লাফে আামাকে সময় নষ্ট করতে নিষেধ করেছিলো। তিনি আমাকে দৌড় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। এরপরই আমি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরতে শুরু করি। 

যেভাবে দৌড় থেকে নার্সিং: 
কমনওয়েলথ গেমসে ১৯৭৪ সালে জেতার পর তিনি ঘানায় এক প্রতিবেশীর দ্বারা নার্সিং পেশা সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এরপরই তিনি লন্ডনে এসে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। 
কিন্তু দৌড়ের প্রতি তার ভালোবাসা তখনও আগের মতোই ছিলো। এমনকি ব্রিটেনের ন্যাশনাল  হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) থেকে দৌড়ের জন্য সব রকম সাহায্য করা হতো। 
এরপর তিনি কানাডায় ১৯৭৬ সালের অলিম্পিকে দৌড়ানোর জন্য মনস্থির করেছিলেন। তবে তাঁর সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। 
তিনি বলেন, আমি ঘানার হয়ে কানাডায় অনুষ্ঠিত অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেবার আফ্রিকার দেশগুলো অলিম্পিক বর্জন করেছিলো। 


এ জাতীয় আরো খবর