রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২৬

রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ পেলেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী,প্রতিশোধ হামলা স্থগিত

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৮-০৮ ১১:৩১:৪৪
ফাইল ছবি

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদিকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে রিয়াদ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে পাল্টা আক্রমণের ঘোষণা দেওয়া ইরানপন্থী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও তাদের প্রতিশোধমূলক হামলা আপাতত স্থগিত করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরাককে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
শুক্রবার ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান খালিদ বিন আলী আল-হুমাইদান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি সৌদি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আল-জায়েদিকে রাজধানী রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন।
এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে আল-জায়েদির সৌদি আরব সফরের কথা ছিল। কিন্তু ২৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি বাহিনীর হামলায় পাঁচ ইরানি নাগরিকসহ ২০ জন যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর নির্ধারিত সফরটি বাতিল করা হয়।
এদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে দেশটির বাহিনী। এসব হামলার জন্য ইরাকে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে রিয়াদ। এর পরই ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলা চালানোর ঘটনা ঘটে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সময় ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো ইরাকে শত শতবার মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র করার জন্য ইরাক সরকারের ওপর ওয়াশিংটনের চাপও বাড়ছিল।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা আল-জায়েদি ইরানের ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সমর্পণে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে প্রভাবশালী কয়েকটি গোষ্ঠী এর বিরোধিতা করে আসছে।
ইরাক সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে দেওয়া হবে না। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে বৃহস্পতিবার ইরাকি কর্তৃপক্ষ দেশের সীমান্ত ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানায়।
দুটি নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি হামলার সম্ভাব্য পাল্টা জবাব ঠেকাতেই এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠনের জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। শুক্রবার জোটটি জানায়, নির্ধারিত সময়ে যে পাল্টা হামলা চালানোর কথা ছিল, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
ইরানঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা ও বদর সংগঠনের প্রধান হাদি আল-আমেরির আহ্বানের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অন্যান্য রাজনৈতিক নেতার ‘সম্মানজনক অবস্থান’-এর কথাও জোটটি তাদের সিদ্ধান্তের পেছনে উল্লেখ করেছে। এর আগে আল-আমেরি এক ভিডিও বার্তায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে হামলার জবাব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইরাক সরকার আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিরস্ত্র হওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-উভয়ই ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। তবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরিতার কারণে ইরাক অনেক সময় তাদের পরোক্ষ সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ফলে বাগদাদকে একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে অত্যন্ত কঠিন কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে।

ইরাক, সৌদি আরব, ইরান


এ জাতীয় আরো খবর