মহেশখালী(কক্সবাজার)
মহেশখালী জেটি ঘাটে নতুন করে টোল নির্ধারণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতার আপাতত অবসান হয়েছে। ঘাটে আগের নিয়মেই টোল আদায় করা হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ। তাঁর দাবি, স্থানীয় যাত্রীদের নির্ধারিত ৫ টাকার বেশি কোনো টোল দিতে হবে না।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করে সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ বলেন, “বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে আমার কথা হয়েছে। মহেশখালী ঘাট আগের নিয়মেই চলবে। ৫ টাকার বেশি কেউ টোল দেবেন না।” নতুন টোল তালিকা ঘিরে অসন্তোষ সম্প্রতি মহেশখালী ঘাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নতুন একটি টোলের তালিকা টাঙায়। ওই তালিকায় স্থানীয়দের জন্য প্রতি ঘাটে ৫ টাকা, দেশীয় পর্যটকদের জন্য ৫০ টাকা এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য ৩০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়।
নতুন তালিকা প্রকাশের পরই স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দেয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত নৌযাত্রীদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে
মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন টোল কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে এবং স্থানীয় যাত্রীদের ক্ষেত্রে এর বাস্তব প্রয়োগ কী হবে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেন, মহেশখালী একটি দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় নৌপথ এখানকার মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই নৌপথ ব্যবহার করেন। ফলে ঘাট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সাধারণ যাত্রীদের জন্য নতুন দুর্ভোগ তৈরি করতে পারে। প্রতিবাদে মানববন্ধন নতুন টোল তালিকার প্রতিবাদে শনিবার সকালে মহেশখালী জেটি চত্বরে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। মানববন্ধনে বক্তারা নতুন টোলের তালিকা নিয়ে আপত্তি জানান এবং আগের নিয়মে টোল আদায়ের দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, নৌপথে যাতায়াতের ব্যয় এমনিতেই সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি করে। এর সঙ্গে টোলের হার বাড়ানো হলে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিয়মিত যাতায়াত ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়দের দাবি ছিল,পর্যটন ও বাণিজ্যের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের যাতায়াতের বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে ঘাট ব্যবস্থাপনা ও টোল নীতি নির্ধারণ করতে হবে। এমপি ফরিদের হস্তক্ষেপ, টোল নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্যআলমগীর ফরিদ। শনিবার দুপুরে চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনে আলোচনা হয় বলে জানান তিনি।
আলমগীর ফরিদের বক্তব্য অনুযায়ী,আলোচনায় মহেশখালী ঘাট আগের নিয়মে পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষেত্রে ৫ টাকার বেশি টোল নেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান। এতে নতুন টোল তালিকা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে নতুন টোল তালিকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার, সংশোধন কিংবা কার্যকর না করার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর লিখিত নির্দেশনা বা পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে,তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। পর্যটন সম্ভাবনা বনাম যাত্রীস্বার্থ মহেশখালী বর্তমানে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন ও অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আদিনাথ মন্দির, পাহাড়, সমুদ্র ও নৌপথকেন্দ্রিক পর্যটন সম্ভাবনার কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগ্রহও বাড়ছে। এ অবস্থায় ঘাট ব্যবস্থাপনা ও টোল নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় যাত্রীদের পাশাপাশি পর্যটকদের সুবিধা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের মতে, পর্যটকদের জন্য নির্ধারিত টোল থাকলেও তা যেন পর্যটনবান্ধব পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং সাধারণ স্থানীয় যাত্রীদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও স্থায়ী সমাধানের দাবি মহেশখালী ঘাটে টোল আদায় নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আরও একটি দাবি সামনে এসেছে টোল আদায়ের নিয়ম, হার ও প্রযোজ্য শ্রেণি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশ্যে দিতে হবে। স্থানীয় যাত্রীদের মতে, ঘাটে টোল আদায়ের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অতিরিক্ত আদায়ের সুযোগ না থাকে, সেজন্য দৃশ্যমানভাবে অনুমোদিত টোলের তালিকা টাঙানো এবং নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।তাদের প্রত্যাশা,বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলে ভবিষ্যতে টোল নিয়ে নতুন করে বিভ্রান্তি বা জনঅসন্তোষ তৈরি হবে না।
এখন নজর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে, মহেশখালী ঘাটে নতুন টোল তালিকা প্রকাশ, স্থানীয়দের প্রতিবাদ এবং পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ পুরো ঘটনা প্রবাহে আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্থানীয় যাত্রীদের জন্য আগের ৫ টাকার টোলই বহাল থাকবে এমন আশ্বাস পাওয়া গেছে।তবে এই সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক বাস্তবায়ন এবং ঘাটে টোল আদায়ের ক্ষেত্রে তা কতটা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মৌখিক আশ্বাসের পাশাপাশি বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করবে। এতে মহেশখালী ঘাটের টোল নিয়ে চলমান বিভ্রান্তির স্থায়ী অবসান ঘটবে এবং সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে।
তথ্যছকঃ-মহেশখালী ঘাটের টোল নিয়ে যা জানা গেল আগের নিয়ম:স্থানীয় যাত্রী ৫ টাকা, নতুন তালিকায় স্থানীয়: ৫ টাকা, নতুন তালিকায় দেশীয় পর্যটক: ৫০ টাকা, নতুন তালিকায় বিদেশি পর্যটক: ৩০০ টাকা
নতুন তালিকা ঘিরে প্রতিক্রিয়া: স্থানীয়দের মানববন্ধন
হস্তক্ষেপ: সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদের বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা বর্তমান আশ্বাস: স্থানীয়দের কাছ থেকে ৫ টাকার বেশি টোল নয়
পরবর্তী বিষয়: আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন।