রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২৬

প্রথম চট্টগ্রাম সফরে প্রধানমন্ত্রী,১৩০ পরিবারকে দেবেন নতুন ঘর

  • সকালের আলো ডেস্ক
  • ২০২৬-০৮-০৯ ০০:০৬:১৩
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজকের এই সফরে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০টি পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন। পাশাপাশি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনের পাশাপাশি হাটহাজারীতে পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
পরে তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে যাবেন। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ১৩০টি পরিবারের হাতে ঘর হস্তান্তর করবেন।
গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা। বন্যায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হারায়। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ঘর। সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করতে শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এরপর দুপুর দেড়টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে তাঁর। পরে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে তারা আনন্দের সঙ্গে দেখছেন। হেফাজতের আমিরের পক্ষ থেকে লিখিত কিছু দাবি ও প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরই আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু রমজান মাস শুরু হওয়া এবং বাবুনগর মাদ্রাসায় খতমে তারাবির দায়িত্ব থাকায় ঢাকায় যাওয়া সম্ভব নয় বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়। তখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই ফটিকছড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দোয়া নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ি সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় কিছু সময় অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ফটিকছড়িতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতির প্রায় সব কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হেলিপ্যাড নির্মাণ, অনুষ্ঠানস্থল প্রস্তুত, সড়ক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সফরের শেষ পর্যায়ে রাত ৯টা ২০ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে চট্টগ্রামে একদিকে যেমন অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনের প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন ঘর পাওয়ার প্রত্যাশায় তৈরি হয়েছে উৎসাহ ও অপেক্ষা।

চট্টগ্রাম, পুনর্বাসন, মাতারবাড়ী


এ জাতীয় আরো খবর