রবিবার, আগস্ট ২, ২০২৬

সেউতায় অভিবাসীর ঢল,স্পেন-ইউরোপে নতুন রাজনৈতিক চাপ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৮-০১ ২২:৫০:৫৫
ছবি: সংগৃহীত।

স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় মরক্কো থেকে আকস্মিকভাবে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশকে কেন্দ্র করে ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাত্র তিন দিনের কম সময়ে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ জরুরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। খবর এএফপি।
সেউতার প্রশাসনিক প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জানান, মাত্র ৮৪ হাজার জনসংখ্যার এই অঞ্চলে কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসীর প্রবেশ নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষকে ইতোমধ্যে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে সেউতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৩৪ জনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
ভিভাস বলেন, ২০২১ সালের মে মাসে কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশের যে ঘটনা ঘটেছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার তুলনায় অনেক বড় ও জটিল।
উত্তর আফ্রিকার অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা স্প্যানিশ সাংবাদিক ইগনাসিও সেমব্রেরো দাবি করেন, বুধবার থেকে সীমান্ত এলাকায় মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম ছিল অস্বাভাবিকভাবে শিথিল। তাঁর মতে, সীমান্ত অতিক্রমে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে অভিবাসীদের কার্যত এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৮ জুলাই স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। ওই রায়ে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে নতুন আইনি সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়। তবে শুধু এই রায় দিয়ে এত বড় মাত্রার অভিবাসী প্রবেশের ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, স্পেনের তুলনামূলক উদার অভিবাসন নীতিও এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হতে পারে।
কূটনৈতিক চাপের কৌশল?
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মরক্কো দীর্ঘদিনের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব বিরোধে স্পেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই অভিবাসন ইস্যুকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।
১৯৫৬ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই মরক্কো সেউতা ও মেলিয়ার মালিকানা দাবি করে আসছে। তবে স্পেন সেই দাবি ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
ইগনাসিও সেমব্রেরোর ভাষ্য, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে মরক্কো স্পেনকে নতুন করে আলোচনার টেবিলে আনতে চাইতে পারে।
অভিবাসন সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও পড়তে শুরু করেছে। ইতালি স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তির আওতায় অবাধ সীমান্ত চলাচল সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে স্পেন এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হবে না।
এদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য স্পেনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ফ্রান্স জানিয়েছে, শনিবার থেকে স্পেন সীমান্তে পুলিশ মোতায়েন পাঁচ গুণ বাড়ানো হবে। পর্তুগালও দক্ষিণাঞ্চলের স্থল ও সমুদ্র সীমান্তে নজরদারি জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে।

সেউতা, অভিবাসন, স্পেন


এ জাতীয় আরো খবর