রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২৬

শব্দদূষণে কঠোর বিধিনিষেধ,নিরব এলাকায় সর্বোচ্চ ৪০ ডেসিবল

  • সকালের আলো ডেস্ক
  • ২০২৬-০৮-০৯ ০০:২৬:৩৪

মানুষের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুসারে এলাকা ভেদে শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি উচ্চ শব্দ সৃষ্টি, হর্ন ব্যবহার, নির্মাণকাজ ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরিচালনায় সময় ও মাত্রার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত শব্দমাত্রা অনুসরণে জনগণকে আহ্বান জানিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিরব এলাকায় শব্দের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মাত্রা ৪০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় ৭৫ ডেসিবল। নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে কোনো ধরনের উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করা যাবে না।
বিধিমালায় উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন যন্ত্রপাতি বা কর্মকাণ্ড নির্ধারিত মাত্রার বাইরে পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অনুমতি ছাড়া জনসমাগমস্থলে উচ্চ শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
অনুমতি নিয়ে এসব যন্ত্র ব্যবহার করা হলেও শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৯০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে। একই সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টার বেশি এসব যন্ত্র চালানো যাবে না এবং রাত ১১টার পর এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহারের অনুমতিও থাকবে না।
নির্ধারিত সীমার বেশি শব্দ উৎপন্ন করে এমন হর্ন তৈরি, আমদানি, মজুদ, বিক্রি ও ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নিরব এলাকায় কোনো ধরনের হর্ন বাজানো যাবে না। একইভাবে এসব এলাকায় পটকা, আতশবাজি বা অন্য কোনো উপায়ে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করাও নিষিদ্ধ।
আবাসিক এলাকার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়ের বিধিনিষেধ রয়েছে। রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আবাসিক এলাকায় হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলকে শব্দদূষণ থেকে রক্ষায়ও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধের পাশাপাশি বনাঞ্চলে বনভোজন আয়োজন এবং উচ্চ শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্র ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
নির্মাণকাজের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণযন্ত্র বা এ ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার ও পরিচালনা করা যাবে না।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন বিধিনিষেধ অমান্য করে শব্দদূষণ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ট্রাফিক সার্জেন্ট বা তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে শব্দদূষণের ঘটনা প্রত্যক্ষ করলে বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন হয়ে নির্ধারিত বিধিমালা মেনে চলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

শব্দদূষণ, বিধিনিষেধ, পরিবেশ


এ জাতীয় আরো খবর