মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬

দান করা সম্পত্তিও আজীবন ভোগ করতে পারবেন দাতা,আইনে বড় পরিবর্তনের অনুমোদন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৬-০৮-০৪ ০০:০৬:০১
ছবি: সংগৃহীত।

সম্পত্তি দানের পরও দাতা যেন জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করতে পারেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করে সংশ্লিষ্ট আইনের সংশোধনী খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই বৈঠকে গুম প্রতিরোধে নতুন আইন এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সম্পত্তি দানের মাধ্যমে মালিকানা গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হলেও দাতা চাইলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন। বর্তমানে কার্যকর আইনে সম্পত্তি দান সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মালিকানার পাশাপাশি ভোগদখলের অধিকারও সম্পূর্ণভাবে গ্রহীতার কাছে চলে যায়।
বৈঠকে‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে। নতুন আইনটি গুম প্রতিরোধ, ঘটনার তদন্ত, দায়ীদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি করবে।
আইনে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্ত অনুপস্থিত থাকলেও বিচার পরিচালনার সুযোগ, ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্যদাতা ও ভুক্তভোগীর পরিচয় ও নিরাপত্তা সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার পাবে। তাদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের পাশাপাশি দোষী ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে রাষ্ট্র নিজেও ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।
মন্ত্রিসভা একই সঙ্গে ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতোই কার্যকর থাকবে।

সম্পত্তি দান, গুম প্রতিরোধ আইন, মন্ত্রিসভা


এ জাতীয় আরো খবর