রবিবার, আগস্ট ২, ২০২৬

হামাস ইস্যুতে অগ্রগতি,ইরান সংকটে কৌশলগত চাপে ট্রাম্প

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৮-০১ ২২:৪১:৪১
ফাইল ছবি

হামাসের অস্ত্র সমর্পণ-সংক্রান্ত সমঝোতায় কূটনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করলেও ইরানকে ঘিরে চলমান সংকটে এখনো কার্যকর সমাধানের পথ খুঁজে পাচ্ছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁর প্রশাসন ক্রমেই জটিল কৌশলগত বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। খবর এএফপি।
প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের পর ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে কৌশলগত বিকল্পের পরিসর অনেকটাই সংকুচিত হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপ ও বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত মিলছে যে, পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হোয়াইট হাউসকে বারবার পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে।
বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলার জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, এবার পাল্টা জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।
তবে ধারাবাহিক বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করার কৌশল প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় সেই পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সময়ে ইরাক, সৌদি আরব ও মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
শুক্রবার মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করলেও ট্রাম্প নতুন কোনো কৌশল বা নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেননি।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার সীমিত সুযোগ নিয়ে অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ অনেকাংশেই নির্ভর করছে তেহরানের সিদ্ধান্তের ওপর।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন। তবে এরপর সংঘাত ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশিত গতিপথে এগোয়নি।
দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ
যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শেষ করা সম্ভব হবে এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখা।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযানে ইরানের নৌ সক্ষমতা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করা হয়েছে। তবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সেখানে জাহাজ চলাচলে হামলার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে তেহরান।
১৭ জুন কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিও এরই মধ্যে ভেঙে পড়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ট্রাম্প, ইরান, মধ্যপ্রাচ্য


এ জাতীয় আরো খবর