গমরঙা পৃথিবী একদিন
অলৌকিক আলোর আঁচলে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিল।
সৃষ্টির শরীরে তখন,
চন্দনকাঠের সুগন্ধ লেগে থাকত দীর্ঘ প্রার্থনার মতো !
তারপর ! প্রলয়ের লাশ্যময়ী অগ্নিনর্তকী,
মহাবলীর করতলে আশ্রিত হয়ে
শিখে নিল বশ্যতার গোপন ব্যাকরণ।
নতজানু আগুন এখন
ইশারায় ইশারায় ধ্বংসের মন্ত্র পাঠ করে।
বাতাস দূতের মতো
অদৃশ্য সংকেত বয়ে আনে !
আর লেলিহান শিখারা,
চন্দনবনে দাবানলের উপাখ্যান লেখে।
গোলাপের পাপড়ির মতো কোমল অনুভূতিগুলো !
ধীরে ধীরে ছাই হয়ে উড়ে যায়
অদেখা শ্মশানের দিকে।
জীবন ও জীবিকা !
দুটি সমান্তরাল নদীর মতো বয়ে চলে
অনিবার্য মোহনার অভিমুখে।
মানুষের গল্প, নদীর গল্প, ক্ষয়ের গল্প !
শেষ পর্যন্ত একই জলে গিয়ে নামহীন হয়ে মিশে যায়।
ম্লান জ্যোৎস্নার পাতলা পাংশুটে সর
নদী নিঃশব্দে পান করে নেয়
রাতের গভীরতা থেকে।
দক্ষ ডুবুরি মতো এক মাছরাঙা !
পান্না সবুজ জলের বুক চিরে তুলে আনে
যন্ত্রণায় থরথর করতে থাকা জীবন !
এক সময় আগুন ও ক্লান্ত হয়ে,
খাদ্য ও খাদকের শাশ্বত শৃংখলের কাছে
মাথা নত করে !
ধ্বংস থেমে থাকে কিছুক্ষণ!
তখন সৃষ্টি আবার
ভাঙা মন্দিরের ধূপগন্ধ মেখে
সুন্দরের উপাসনায় ফিরে যায়।