অবৈধ আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশনে ব্যবহৃত ভিওআইপি কার্যক্রমে আবারও মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের সিম ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে গ্রামীণফোনকে নোটিশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানা ও চট্টগ্রামের হালিশহর থানা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহৃত গ্রামীণফোনের মোট ১৮৪টি সিম জব্দ করা হয়। এর মধ্যে কুমিল্লা থেকে ১৬৪টি এবং চট্টগ্রাম থেকে ২০টি সিম উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিটি সিমের বিপরীতে ১০ হাজার টাকা হিসেবে মোট ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গ্রামীণফোন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১, ২০২৪ সালের সেলুলার মোবাইল সেবার লাইসেন্সিং নির্দেশিকা এবং লাইসেন্সের একাধিক শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে নিজস্ব নেটওয়ার্কে অবৈধ কল প্রতিরোধে বাধ্যতামূলক স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং টেলিকম জালিয়াতি প্রতিরোধ ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগে ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করেছে বিটিআরসি।
এর আগে বিভিন্ন সময়েও অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে গ্রামীণফোনের সিম ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল বিটিআরসি। ২০০৭ সালে এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর ১৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরের বছর তৃতীয় পক্ষকে ই-ওয়ান সংযোগ দিয়ে অবৈধ ভিওআইপি পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে সমঝোতার ভিত্তিতে ২৫০ কোটি টাকা প্রশাসনিক জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করে অপারেটরটি।
এ ছাড়া ২০১৮ সালে অভিযানে ১ হাজার ৪১৪টি, ২০২২ সালে ২ হাজার ৩৫৬টি এবং ২০২৩ সালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ১ হাজার ৬৪০টি গ্রামীণফোনের সিম অবৈধ কল টার্মিনেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবস্থায় শনাক্ত ও জব্দ করা হয়। ২০২২ সালের ঘটনায় প্রথমে ৯৯ লাখ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হলেও পুনঃপর্যালোচনার পর তা কমিয়ে ৫০ লাখ টাকা করা হয়, যা পরবর্তীতে পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠানটি।
এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রচলিত আইন এবং বিটিআরসির সব নির্দেশনা অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তার দাবি, সব গ্রাহকের সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয় এবং অবৈধ ভিওআইপি প্রতিরোধে নির্ধারিত স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে কোনো নিবন্ধিত গ্রাহক ব্যক্তিগতভাবে সিমের অপব্যবহার করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের হওয়া উচিত। এ বিষয়ে বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
গ্রামীণফোন, ভিওআইপি, বিটিআরসি