সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

মহেশখালীর গভীর সাগরে বিকল ড্যানিশ বোট উদ্ধার,আশ্রয়ে পিতা-পুত্র দুই জেলে; মালামাল লুটের অভিযোগ

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৭-২৫ ২৩:৫১:৩৮

মহেশখালী(কক্সবাজার) 
মহেশখালী  উপজেলার  কুতুবজোম ইউনিয়নের গভীর সাগরে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্থানীয়   ফিশিংবোট   মালিক  জিয়াউর   রহমান। মাছ শিকার  শেষে  উপকূলে  ফেরার  পথে  তিনি  ও   তাঁর বোটের জেলেরা সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকা একটি বিকল   ড্যানিশ   বোট    এবং   তাতে    আটকে  পড়া পিতা-পুত্র  দুই  জেলেকে  উদ্ধার  করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন।  তবে  মানবিক  এই  উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি   উদ্ধার   হওয়া  ড্যানিশ  বোটের মালামাল লুটের  অভিযোগ  ঘিরে  নতুন  প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের   দাবি,   বোটটিতে   থাকা   কিছু  মূল্যবান মালামাল নিখোঁজ রয়েছে।  যদিও  এ  বিষয়ে  এখনো প্রশাসন  বা  আইনশৃঙ্খলা  রক্ষাকারী  বাহিনীর  পক্ষ থেকে   কোনো  আনুষ্ঠানিক   বক্তব্য  পাওয়া  যায়নি।
স্থানীয়   সূত্রে   জানা   যায়,  কুতুবজোম  ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া  গ্রামের   বাসিন্দা    জিয়াউর   রহমানের মালিকানাধীন একটি  ফিশিংবোট  গভীর সাগরে মাছ আহরণ শেষে উপকূলে ফিরছিল। এ সময় গুলিরধার নামক সমুদ্র  এলাকায়  একটি  ড্যানিশ  বোটকে দীর্ঘ সময়  ধরে  ভাসমান  অবস্থায়  দেখতে পান জেলেরা। কাছে  গিয়ে  দেখা  যায়, বোটটির মেশিন বিকল হয়ে পড়েছে এবং তাতে থাকা পিতা-পুত্র দুই জেলে অসহায় অবস্থায়  সাহায্যের  অপেক্ষায় রয়েছেন। পরে মানবিক বিবেচনায়   জিয়াউর   রহমানের   ফিশিংবোটের মাঝি মাল্লারা বিকল বোটটিকে নিজেদের বোটের সঙ্গে বেঁধে উদ্ধার    করেন   এবং     দুই     জেলেকেও  নিরাপদে মহেশখালীতে নিয়ে আসেন।  উদ্ধার  হওয়া পিতা-পুত্র দুই জেলে  কুতুবজোম  ইউনিয়নের  দক্ষিণপাড়া গ্রামে জিয়াউর রহমানের  নিজ বাড়িতে আশ্রয়ে থাকার পর
এলাকায়   ব্যাপক    আলোচনা    সমালোচনার  মুখে 
জিয়াউর রহমান পিতা-পুত্র দুই জেলেকে  মহেশখালী থানা পুলিশ কাছে হস্তান্তর করে। 
অন্যদিকে উদ্ধারকৃত ড্যানিশ বোটটি জিয়াউর রহমান এর   ফিশিংবোটের   এক    সঙ্গেবেঁধে    মহেশখালীর তাজিয়াকাটা   ঘাটে   রাখা  হয়েছে  এবং  সেটি  তাঁর তত্ত্বাবধানে   রয়েছে    বলে    স্থানীয়রা  জানিয়েছেন।
এদিকে    ঘটনাস্থল    ও   ঘাটে    উপস্থিত  একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী  দাবি করেছেন,  উদ্ধারকৃত ড্যানিশ বোটে থাকা কিছু মালামাল  আর  পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বোটটির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মালামাল লুট   হয়েছে   বলে   ধারণা  করা  হচ্ছে। তবে কী কী মালামাল    নিখোঁজ, কীভাবে    বা   কখন  সেগুলো হারিয়েছে  এ বিষয়ে   এখনো   নিশ্চিত  কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।  ফলে বিষয়টি  নিয়ে নানা আলোচনা 
ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়   সচেতন  মহল  বলছে, গভীর সাগরে উদ্ধার হওয়া একটি বিদেশি ড্যানিশ বোটের নিরাপত্তা এবং তাতে থাকা মালামালের হিসাব  নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক   তদন্ত   প্রয়োজন।   একই  সঙ্গে  উদ্ধার অভিযানের সম্পূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ, বোটটির  মালিকানা, জেলেদের পরিচয় এবং মালামাল লুটের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
স্থানীয়দের   মতে, কোস্ট  গার্ড, নৌপুলিশ, মেরিন ফিশারিজ বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে তদন্ত করলে  প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং এ ঘটনায় কোনো অনিয়ম বা অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে  দায়ীদের  বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ 
করা সম্ভব হবে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, কোস্ট গার্ড কিংবা নৌপুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 
মহেশখালী   থানার    অফিসার   ইনচার্জ  (ওসি)  মোঃ আব্দুস  সোলতান  বলেন, “বঙ্গোপসাগরে   মাছ ধরার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি শ্রীলঙ্কান মাছ ধরার নৌকা   দীর্ঘ   সময়   সাগরে   ভাসমান  অবস্থায় ছিল। বিষয়টি  জানার  পর  সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নৌকাসহ দুই শ্রীলঙ্কান  জেলেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।উদ্ধার হওয়া দুইজেলের পরিচয়-পরিচিতি
ও জাতীয়তা  যাচাইয়ের  কার্যক্রম  চলছে। একই সঙ্গে প্রচলিত আইন, প্রশাসনিক  বিধি-বিধান  এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি   সংস্থার   নির্দেশনা   অনুযায়ী   প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


এ জাতীয় আরো খবর