অনিকেত !
তোমাকে আমি কোনদিন
ঐ দূরের আকাশটা ভাবিনি !
তুমি ছিলে খুব কাছের,
মাটির গন্ধ মাখা,
তুমি ছিলে খুব ! খুব রক্ত মাংসের !
ঘামে ভেজা শার্ট,
সুগন্ধি তেলের মতো নাছোড়
চুলে আটকে থাকা দুপুরের গন্ধ !
আর কথা বলার সময়,
হঠাৎ থেমে যাওয়া একটি মানুষ !
তবু আশ্চর্য !
তুমি চলে যাওয়ার পরে
তোমার শরীরটাকেই সবচেয়ে বেশি
সুশৃংখল প্রকৃতির মতো মনে হয়।
হৈমন্তী বেলাশেষের বিকেলে
ধান ক্ষেতে দাঁড়ালে, মনে হয় !
এই বুঝি তুমি পাশ থেকে বলে উঠবে,
"দেখো ! বাতাসও আজ
কি সুন্দর করে তোমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে।"
আমি তখন বুঝিনি !
বাতাসও স্মৃতি জমিয়ে রাখে।
এখন তোমাকে মনে পড়লে,
জানলার পর্দা নড়ে ওঠে।
অকারণে বৃষ্টি নামে।
একটা শুকনো পাতা সিঁড়ি বেয়ে নেমে যায় !
হয়তো তোমার শরীরের কোনো পুরোনো অভ্যাস,
এখনো এই বাড়িটা চেনে !
মনে পড়ে অনিকেত ?
তুমি বলেছিলে !
তোমার কাছে আমার জন্য
অনেক কবিতা জমে আছে !
কোথায় সেগুলো অনিকেত ?
তোমার নতুন মানুষের ঘরে ?
তার বালিশের নিচে ?
নাকি তোমার বুকের যে অংশটুকু
আমার জন্য একদিন নরম ছিলো !
সেখানেই এখন অন্য কারো ঘুম ?
আমি তো জানতে চাইনি !
শুধু মাঝরাতে
তোমার নাম লিখে মুছে ফেলি।
মোবাইলের স্ক্রিনে একটি মানুষের অস্তিত্ব
কত সহজে মুছে যায় !
কিন্তু শরীর ?
শরীর বড় বেইমান !
তোমার হাতের উষ্ণতা
এখনো আমার কব্জিতে লেগে থাকে।
তোমার মাথা রাখার জায়গাটুকু !
বালিশ আজও একটু নিচু হয়ে থাকে !
ভালোবাসা বোধ হয় এখানেই নিষ্ঠুর !
মানুষ চলে যায়,
তার শরীর চলে যায় !
শুধু শরীরের অনুপস্থিতিটা থেকে যায়।
আজ সন্ধ্যায় একটি শালিখ
এসে বসেছিল জানলায়।
আমি তাকে বললাম !
অনিকেতকে দেখেছো ?
সে উড়ে গেল।
পাখিরা বোধহয় জানে !
যে মানুষ ফিরে আসতে চায় না
তার খবর আকাশও রাখে না।
তবু রাত হলে,
আমার সেই ডানা ভাঙা কবিতাটি
আবার জেগে ওঠে।
আমি তাকে আর
তোমার নামে ডাকি না !
তুমি এখন অন্য কারও।
কিন্তু তোমার চলে যাওয়ার পর
আমার ভিতরে যে মেয়েটি জন্মেছে
সে শুধু আমার।
তার চোখে এখনো হেমন্ত নামে।
তার চুলে এখনো বৃষ্টির গন্ধ।
বুকের খুব গোপন জায়গায়
একজন রক্ত মাংসের অনিকেত
ধীরে ধীরে পচে গিয়ে
কবিতা হয়ে থাকে।
তোমাকে ভুলিনি !
এই কথা বলার ও প্রয়োজন ফুরিয়েছে।
তুমি নেই !
এই টুকুই যথেষ্ট প্রমাণ,
কোন কোন ভালোবাসা মানুষকে পায় না।
মানুষের ভিতর একটা ঋতু রেখে যায়।