২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালের জন্য ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দল তাদের ২৫ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। কোচ দিদিয়ের দেশঁর ঘোষিত এই স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছে একাধিক তরুণ মুখ, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম-রায়ান চেরকি। ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিয়ঁর হয়ে দারুণ ফর্মে থাকা এই মিডফিল্ডার প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলার ডাক পেয়েছেন।
আগামী ৫ জুন জার্মানির স্টুটগার্টে হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হবে লেস ব্লুজ। সেই লড়াইয়ের আগে চেরকির অন্তর্ভুক্তি ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চলতি মৌসুমে লিয়ঁর হয়ে ৮ গোল ও ১১ অ্যাসিস্ট করে নিজের জাত চিনিয়েছেন ২০ বছর বয়সী এই তরুণ।
তবে স্কোয়াডে জায়গা পাননি দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়-রক্ষণভাগের উইলিয়াম সালিবা ও মিডফিল্ডের এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। দুজনই ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন, যা ফ্রান্সের রক্ষণ ও মাঝমাঠে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। এই অনুপস্থিতি পূরণে দলে ডাকা হয়েছে জুভেন্টাসের পিয়েরে কালুলু এবং সেভিয়ার লোইক বাদেকে।
স্কোয়াডে তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার চমৎকার সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। আক্রমণভাগে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, মার্কাস থুরাম, র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি ও ব্র্যাডলি বারকোলা-যারা প্রত্যেকেই ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফর্ম করছেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন মুখ মাইকেল ওলিস ও পিএসজির উদীয়মান প্রতিভা দেজিরে দোউই।
মাঝমাঠের দায়িত্বে রয়েছেন অভিজ্ঞ অরেলিয়েন চুয়ামেনি ও আদ্রিয়েন রাবিওর মতো খেলোয়াড়রা। তরুণ ও শক্তিশালী ওয়ারেন জাইরে-এমেরি এবং মানু কোনে এই বিভাগে গতি ও কৌশলের সংমিশ্রণ ঘটাবেন।
গোলরক্ষক পজিশনে আছেন মাইক মাইনিয়ান (এসি মিলান), লুকাস চেভালিয়ার (লিল) এবং ব্রাইস সাম্বা (রেন)। মাইনিয়ানের অভিজ্ঞতা ও ফর্ম দলকে রক্ষণভাগে নিরাপত্তা দেবে বলেই ধারণা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
যদি ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনকে পরাজিত করতে পারে, তাহলে তারা ৮ জুন মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ফাইনালে উঠবে, যেখানে প্রতিপক্ষ হবে জার্মানি অথবা পর্তুগাল।
দলের কাঠামো দেখে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই স্কোয়াড শুধুমাত্র নেশনস লিগ নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকেও প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কাজ করবে। তরুণদের সুযোগ দেওয়া এবং চোটগ্রস্ত খেলোয়াড়দের অভাব পূরণ করার কৌশল থেকে দিদিয়ের দেশঁর দূরদর্শিতা স্পষ্ট।
ফ্রান্সের পূর্ণ স্কোয়াড (২৫ জন)
গোলরক্ষক:
মাইক মাইনিয়ান (এসি মিলান)
লুকাস চেভালিয়ার (লিল)
ব্রাইস সাম্বা (রেন)
রক্ষণভাগ:
থিও হার্নান্দেজ (এসি মিলান)
লুকাস হার্নান্দেজ (পিএসজি)
ইব্রাহিমা কোনাতে (লিভারপুল)
বেঞ্জামিন পাভার্ড (ইন্টার মিলান)
লোইক বাদে (সেভিয়া)
মালো গুস্তো (চেলসি)
পিয়েরে কালুলু (জুভেন্টাস)
ক্লেমেন্ট লেংলে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)
লুকাস ডিগনে (অ্যাস্টন ভিলা)
মাঝমাঠ:
অরেলিয়েন চুয়ামেনি (রিয়াল মাদ্রিদ)
ম্যাটেও গুয়েনদোজি (লাজিও)
মানু কোনে (রোমা)
আদ্রিয়েন রাবিও (মার্সেই)
ওয়ারেন জাইরে-এমেরি (পিএসজি)
আক্রমণভাগ:
কিলিয়ান এমবাপে (রিয়াল মাদ্রিদ)
উসমান দেম্বেলে (পিএসজি)
মার্কাস থুরাম (ইন্টার মিলান)
ব্র্যাডলি বারকোলা (পিএসজি)
রায়ান চেরকি (লিয়ঁ)
দেজিরে দোউই (পিএসজি)
র্যান্ডাল কোলো মুয়ানি (জুভেন্টাস)
মাইকেল ওলিস (বায়ার্ন মিউনিখ)