বলিউডের তিন খানের বাইরে গিয়ে আরেক খানকেও মানুষ চিনেছিল। তিনি প্রয়াত অভিনেতা ইরফান খান।
তাঁর অভিনয় দক্ষতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বহু বর্ষীয়ান অভিনেতাই একাধিক উপমা জুড়েছেন।
অনেকেই বলেছেন তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বলিউডের ব্যতিক্রমি অভিনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। নিজের অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে শুরু থেকেই দর্শকদের সামনে বাস্তব চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।
বলিউড ছাড়িয়ে তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন হলিউডেও।
জন্ম ১৯৬৭ সালের ৭ জানুয়ারি
রাজস্থানের এক পাঠান পরিবারে
১৯৮৮ সালে মীরা নায়ারের অস্কার মনোনীত ছবি 'সালাম বম্বে' দিয়ে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন তিনি।
এর আগে চুটিয়ে টেলিভিশন ও থিয়েটারে কাজ করেছেন। অন্য ধারার ছবিতে অভিনয় করার কথা ভেবেই হয়তো এগিয়েছেন শুরু থেকে।
তবে পরে বেশ কিছু বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করেন ইরফান। কিন্তু সেখানেও আলাদা ছাপ ফেলেছিলেন।
২০০৬ সালে 'নেমসেক' তাঁর মুকুটে যোগ করে নতুন পালক। এরপর থেকে আর সে ভাবে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
সাড়ে তিন দশকের কেরিয়ারে অজস্ত্র কালজয়ী ছবি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন এই অভিনেতা।
তাঁর ঝুলিতে রয়েছে মকবুল, হাসিল, পান সিং তোমার, পিকু, হিন্দি মিডিয়াম এর মতো ছবি। রয়েছে, স্লামডগ মিলেনিয়ার, লাইফ অফ পাই, জুরাসিক ওয়ার্ল্ড, দ্য আমেজিং স্পাইডারম্যানের মতো ছবিও।
ইরফান খান বাংলাদেশেও অভিনয় করেছেন ২০১৭ সালে মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর 'ডুব' চলচ্চিত্রে। সেখানে তাঁর সহশিল্পী ছিল তিশা, রোকেয়া প্রাচী ও পার্ণো মিত্র।
সব ঠিকঠাক চললেও কেরিয়ারে ছন্দপতন হয় ২০১৮ সালে। ওই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নিউরো এন্ডোক্রাইন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে আসে।
কাজ থেকে কিছুদিনের জন্য বিরতি নেন তিনি। এর পর দীর্ঘ সময়ে লন্ডনে চিকিৎসা চলেছে তাঁর।
ক্যানসার জয় করলেও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণেই ছিলেন। এপ্রিলে হঠাৎই শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হয়। ভর্তি হন হাসপাতালে। শোনা যায় কোলন ইনফেকশনের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন ও পরপর চারবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার বিজয়ী বিশ্বখ্যাত অভিনেতা ইরফান খান ২৯ এপ্রিল ২০২০ এর সকালে গোটা সাংস্কৃতিক জগতকে কাঁদিয়ে নিরবে চলে যান অনন্তলোকে।