মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২৬

ওডিসি: প্রত্যাশার ভারে ম্লান এক মহাকাব্যের রুপান্তর

  • সৈয়দ আকিব আজাদ
  • ২০২৬-০৭-২১ ০৪:০৫:৫২
odyssey christopher nolan

হোমারের তিন হাজার বছরের পুরোনো মহাকাব্য ‘ওডিসি’ অবলম্বনে নির্মিত ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন চলচ্চিত্র ছিল বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা। মহাকাব্যটির দীর্ঘদিনের পাঠক হিসেবে আমার প্রত্যাশাও ছিল আকাশছোঁয়া। আইম্যাক্সে প্রথম দিন প্রথম শো দেখার পর মনে হয়েছে—চলচ্চিত্রটি কারিগরি উৎকর্ষে অনবদ্য হলেও, মূল মহাকাব্যের গভীরতা ও পূর্ণতাকে ধারণ করতে পারেনি।

নোলান নিজের স্বকীয় নির্মাণশৈলী অনুযায়ী একাধিক অধ্যায় বাদ দিয়েছেন এবং কয়েকটি ঘটনাকে একত্র করেছেন। একজন পরিচালকের সৃজনশীল স্বাধীনতা অবশ্যই রয়েছে, কিন্তু এই গল্পের ক্ষেত্রে আরও কিছু সময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো তুলে ধরা হলে চলচ্চিত্রটি অনেক বেশি পরিপূর্ণ হতে পারত।

যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি অপূর্ণ লেগেছে—

১. সাইক্লপস পলিফেমাসের অধ্যায়: ওডিসিউস ও পলিফেমাসের বিখ্যাত কথোপকথন, বিশেষ করে “My name is Nobody” এবং পরবর্তীতে “Listen, Polyphemus, my real name is Odysseus”—এই মুহূর্তগুলোই পসাইডনের ক্রোধের সূচনা করে। অথচ সিনেমায় এই অংশ কার্যত অনুপস্থিত।

২. এয়োলাসের দ্বীপ: বায়ুদেবতার দেওয়া বাতাসভর্তি থলে, নাবিকদের লোভ এবং তার পরিণতি—এই ঘটনাটি বাদ পড়ায় যাত্রাপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাটকীয়তা হারিয়ে গেছে।

৩. অ্যামাজনদের দ্বীপ: রানী হিপোলেটার সঙ্গে ওডিসিউসের সাক্ষাৎ এবং সেখানকার ঘটনাপ্রবাহ সম্পূর্ণই বাদ দেওয়া হয়েছে, যা গল্পকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারত।

৪. সার্সির দ্বীপে হার্মিসের অনুপস্থিতি: মূল মহাকাব্যে দেবতা হার্মিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নোলান এথেনা ছাড়া প্রায় সব দেবতার উপস্থিতিই এড়িয়ে গেছেন, ফলে পৌরাণিক আবহ অনেকটাই ক্ষীণ হয়েছে।

৫. লোটাস দ্বীপ ও ক্যালিপসোর কাহিনির সংমিশ্রণ: ক্যালিপসোর সঙ্গে সাত বছরের অধ্যায়ে ওডিসিউসের ঘরে ফেরার আকুতি এবং সেই আবেগই মূল গল্পের অন্যতম শক্তি। চলচ্চিত্রে সেই অনুভূতির গভীরতা অনুপস্থিত।

৬. পাতালপুরীর দৃশ্য: পুরো চলচ্চিত্রের মধ্যে সবচেয়ে হতাশাজনক লেগেছে এই অংশটি। যেখানে রহস্য, ভয় এবং পৌরাণিক বিস্ময়ের এক অনন্য পরিবেশ প্রত্যাশিত ছিল, সেখানে দৃশ্যায়ন হয়েছে অনেকটাই নিরুত্তাপ ও অনাটকীয়।

তবে চলচ্চিত্রটির সিনেমাটোগ্রাফি, নির্মাণশৈলী এবং অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ খুব কম। কারিগরি দিক থেকে এটি নিঃসন্দেহে শক্তিশালী একটি কাজ। আমার আপত্তি মূলত মহাকাব্যের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও আবেগের অনেকটাই অনুপস্থিত থাকার কারণে।

যারা মূল গ্রন্থ পড়েননি, কিংবা বই ও চলচ্চিত্রকে ভিন্ন মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেন, তাদের কাছে সিনেমাটি নিঃসন্দেহে উপভোগ্য হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিনের একজন পাঠক হিসেবে আমার মনে হয়েছে—এত বড় একটি মহাকাব্যকে আরও বিস্তৃত ও পূর্ণাঙ্গভাবে উপস্থাপনের সুযোগ ছিল, যা পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।

ব্যক্তিগত মূল্যায়নে, ১০-এর মধ্যে ৬

 

এ জাতীয় আরো খবর