রাজধানীর বিজয় রাকিন সিটিতে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত বাসিন্দারা টানা অষ্টম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় আবাসনের টেনিস কোর্ট ও বাস্কেটবল মাঠে শতাধিক বাসিন্দা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজয় রাকিন সিটি ফ্ল্যাট মালিক সোসাইটির সভাপতি ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সরদার ইলিয়াস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার কাজী মুফিজুল ইসলাম, প্রকৌশলী এটিএম খালেদুজ্জামান, আজম উল্লাহ, আক্তার হোসেনসহ সোসাইটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আন্দোলনকারী বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসন প্রকল্পটি চালুর দীর্ঘ ১৬ বছর পরও প্রতিশ্রুত অনেক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। একই সঙ্গে ফ্ল্যাটের নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) সম্পন্ন না হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
বাসিন্দাদের দাবি, প্রকল্পে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সম্পূর্ণ করা হয়নি। এছাড়া বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা (এসটিপি), পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, টেনিস কোর্ট, বাস্কেটবল কোর্ট, খেলার মাঠ, ক্লাব ভবন, মসজিদ ভবন, প্রধান ফটকের ফোয়ারা, রিসেপশন, ভবনের চূড়ান্ত রং এবং অভ্যন্তরীণ নকশাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুত কাজ এখনো শেষ হয়নি। দুটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
সোসাইটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, তারা পূর্বে ৩৬টি নির্মাণ ত্রুটি চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করলেও এখন পর্যন্ত সেগুলোর কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির প্রাপ্য ক্ষতিপূরণও এখনো পরিশোধ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, এসব মৌলিক সমস্যা সমাধান না করেই একাধিকবার সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ সম্পন্ন, ফ্ল্যাটের নিবন্ধন জটিলতার স্থায়ী সমাধান, সার্ভিস চার্জ পুনর্বিবেচনা এবং আইনগতভাবে নিবন্ধিত ফ্ল্যাট মালিক সোসাইটির কাছে আবাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এ সময় তারা আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলন দমনে কিছু বাসিন্দাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে এসব পদক্ষেপ আন্দোলনকে দমাতে পারেনি বলেও তাদের দাবি।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা বলেন, নিজেদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং সমবায় অধিদপ্তরে নিবন্ধিত ফ্ল্যাট মালিক সোসাইটির মাধ্যমে আবাসনের সার্বিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে রাকিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
বিজয় রাকিন, ফ্ল্যাট মালিক, অবস্থান কর্মসূচি