আমি কোনো ফুলের কাছে যাইনি-
ফুলই একদিন এসে আমার নীরবতার ভাষা শিখে নিয়েছিল।
সেদিন আকাশে রৌদ্র ছিল না খুব বেশি,
তবু আলোর অভাব ছিল না;
কারণ আলো কখনও কখনও
জন্ম নেয় মানুষের অন্তরের গভীরতম প্রশ্ন থেকে।
আমি দেখলাম-
পৃথিবীর প্রতিটি পাতা যেন একটি অদেখা পত্র,
যেখানে সময় তার প্রাচীন স্বাক্ষর রেখে গেছে।
বাতাস আমাকে বলল,
"যে সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে চাও, সে মুছে যাবে;
যাকে ভালোবাসতে শেখো, সে অনন্ত হয়ে থাকবে।"
তখন নদী তার জলের মধ্যে
আমার মুখ নয়, আমার আগামীকালকে ভাসিয়ে দিল।
আমি বুঝলাম-
মানুষের সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রা
এক দেশ থেকে অন্য দেশে নয়,
নিজের ভেতর থেকে নিজেরই গভীরতর সত্তায়।
সে এক নামহীন ফুল
তার ক্ষুদ্র পাপড়িতে বহন করছিল নক্ষত্রের ইতিহাস;
আর আমি,
আমার সমস্ত অহংকার মাটিতে রেখে,
শিখছিলাম বিনয়ের প্রথম বর্ণমালা।
হঠাৎ মনে হলো-
মৃত্যুও হয়তো শেষ নয়;
সে কেবল একটি বন্ধ দরজা,
যার ওপারে অন্য এক প্রভাত
নীরবে আলো জ্বেলে অপেক্ষা করে।
তখন আমার হৃদয় আর একা রইল না।
সে গাছের সবুজে, পাখির ডানায়,
মানুষের চোখের অশ্রুতে,
অপরিচিতের হাসিতে
নিজেকেই খুঁজে পেল।
আমি আর কোনো ফুল তুললাম না-
কারণ বুঝে গেছি,
যে ফুলকে ছিঁড়ে নেওয়া যায়,
সে সৌন্দর্যের কেবল শরীর;
আর যে ফুল আত্মার ভেতর ফোটে,
তার ঋতু কখনও শেষ হয় না।
আজও যখন পৃথিবী ক্লান্ত হয়ে পড়ে,
আমি চোখ বন্ধ করি-
দেখি, আমার ভেতরে এক নীরব উদ্যান
আলোয় আলোয় ভরে উঠছে।
সেখানে প্রতিটি প্রস্ফুটন
একটি ক্ষমা,
প্রতিটি সুবাস
একটি নতুন জন্ম,
আর প্রতিটি নিঃশ্বাস
ঘোষণা করে-
মানুষের সত্যিকারের বাসস্থান
কোনো ভূখণ্ডে নয়,
তার জাগ্রত হৃদয়ের অসীম আকাশে।