আমি পথ ভোলা এক পথিক
আমার নাইতো কোন দিক।
আমি উদ্ভ্রান্তের মত তাই,
এক গাঁ হতে আরেক গাঁয়ে যাই।
পথে পথে ঘুড়ে, এর ওর থেকে
নিজের খাদ্য যোগাই।
আমি একা একা মনে
সাল পিয়ালের বনে
ঘুরে ঘুরে গান গাই।
আমি পথ ভোলা এক পথিক।
আমি চলেছি একা সেদিক।
যেদিক দিয়ে গ্রাম্য রমনী,
ঘট নিয়ে যায় জলে।
পথের পাশের গাছ গুলো সব
ভরে আছে ফুলে ফলে।
আবার কখনো রাখাল বালক
গরু নিয়ে যায় চলে,
কখনো কিশোরী,
দু বেনি করে ঝাপ দেয় এসে জলে।
আমি পথ ভোলা এক পথিক।
আমি চলেছি এদিক ওদিক।
যেদিক দিয়ে ছোটছেলে গুলো
ডাঙ্গুলি, আর কানামাছি খেলা করে।
আবার কখনো ছোট জাল নিয়ে
ছোট মাছখানি ধরে।
আবার কতক ঘুটে কুড়াইয়ে
ক্লান্ত হয়ে গাছের নিচেতে
বসিয়া আরাম করে।
আমি পথ ভোলা এক পথিক।
আমি চলেছি ঠিক সেদিক।
যেদিক পানে পিউ পাপিয়া
মৌমাছি যায় গুন্জরিয়া।
যেদিক পানে কালো কাকঐ
কর্কশ সুরে ডাকে।
সন্ধ্যা নামিলে আবার যেখানে,
শেয়ালেরা ডাক হাকে।
সরু সরু ঐ মেঠো পথ দিয়ে
কৃশ্নচূড়ার বাকে,
খেজুর গাছেরা গলাগলি ধরে
কেউবা একটু ফাঁকে।
আমি পথ ভোলা এক পথিক।
আমি সবচে নিঃসঙ্গ অধীক।
তারপরও কেন রং লাগে মনে।
মনে হয় শুধু ঘুড়ি জনে জনে।
এর কাছ থেকে, ওর কাছ থেকে
চলেছি খবর জেনে।
কে কোথায় আজ এম. এ পাশ দিলো
কার বা হলো বিয়ে,
কারবা আবার ছেলে মরিলো,
কেইবা বিছানা নিয়ে।
আমি পথ ভোলা এক পথিক।
আমি জানি ঠিক বেঠিক।
তারপর ও কেন নিজেরে হারায়ে
নিজেরে খুঁজে বেড়াই।
আমার নাইতো কোন দেশ,
আমি হয়েছিনু নিরুদ্দেশ।
পরিবার ভুলে, সুখ গুলো ভুলে
নিজেরে করেছি শেষ।
এরই মাঝেতে আমারি সুখ,
এইতো আমার বেশ।