শনিবার, আগস্ট ১, ২০২৬

গাজায় নিরস্ত্রীকরণে হামাসসহ ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সমঝোতা,শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-৩১ ১০:৫৪:০৬
ফাইল ছবি

গাজায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান এবং নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের লক্ষ্যে নিরস্ত্রীকরণ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতায় সম্মত হয়েছে হামাসসহ বিভিন্ন ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী। আল জাজিরার হাতে আসা চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, ধাপে ধাপে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক তদারকি এবং ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহারের ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গাজায় নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে এবং অঞ্চলটি আর সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।
চুক্তির খসড়া অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রমের বিস্তারিত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক যাচাইকরণ সংস্থার অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতিতে এ সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।
প্রথম ধাপে গাজায় একটি ন্যাশনাল কমিটি এবং ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) কাজ শুরু করবে। ন্যাশনাল কমিটি অস্ত্রের তালিকা প্রণয়ন, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। পুরো কার্যক্রম আন্তর্জাতিক যাচাইকরণ কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এবং এতে ফিলিস্তিনি বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরাও যুক্ত থাকবেন।
সমঝোতায় বলা হয়েছে, গাজায় থাকা কোনো অস্ত্র ইসরায়েল বা অন্য কোনো বিদেশি পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। অস্ত্র সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের একমাত্র দায়িত্ব থাকবে ন্যাশনাল কমিটির ওপর।
বোর্ড অব পিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রথমে ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর অস্ত্র হস্তান্তর করা হবে। পরে ধাপে ধাপে ভারী অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা এবং গাজাজুড়ে সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে উল্লেখযোগ্য সময় লাগতে পারে বলেও তিনি জানান।
হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজী হামাদ আল জাজিরাকে বলেন, দীর্ঘ ও জটিল আলোচনা শেষে এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। তবে ইসরায়েল যদি চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন না করে, তাহলে হামাসও নিরস্ত্রীকরণের কোনো ধাপ কার্যকর করবে না। তাঁর মতে, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার ও গাজার পুনর্গঠনের অগ্রগতির সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।
অন্যদিকে, চুক্তি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েল সরকার। ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) জানিয়েছে, প্রকাশিত চুক্তির কয়েকটি ভাষা ও শর্ত নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
আল জাজিরার তথ্যমতে, মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় কায়রোতে হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন এবং সমঝোতার পরবর্তী অগ্রগতি নিয়ে শিগগিরই মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর নতুন বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

গাজা, হামাস, নিরস্ত্রীকরণ


এ জাতীয় আরো খবর