রবিবার, আগস্ট ২, ২০২৬

সন্ত্রাসী কনটেন্ট অপসারণে ব্যর্থতার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে মামলা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৭-৩১ ১০:৪১:৫১

সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত কনটেন্ট অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বার্তা আদান-প্রদানের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সাইবার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি ৪৬ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানা গুনতে হতে পারে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী মামলাটি দায়ের করা হয়।
এই পদক্ষেপের একদিন আগে রাশিয়া টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাভেল দুরভকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। দেশটির অভিযোগ, তিনি সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন।
৪১ বছর বয়সী পাভেল দুরভ অতীতে দুবাই ও ফ্রান্সে বসবাস করেছেন। ২০২৪ সালে অবৈধ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ফ্রান্সে গ্রেপ্তার হলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরবর্তীতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে তিনি ফ্রান্স ত্যাগ করেন।
ফরাসি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বৈত পাসপোর্টধারী দুরভের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্র্যান্ট বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নোটিশ দেওয়ার পরও টেলিগ্রাম সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করে এমন বহু কনটেন্ট সরিয়ে নেয়নি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কনটেন্টের মধ্যে ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ভিডিও, গণহত্যার দৃশ্য এবং সাম্প্রতিক ইতিহাসের আলোচিত কয়েকটি উগ্র সহিংস হামলার ভিডিও।
তিনি জানান, ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলার সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিও এবং ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরের বন্দুক হামলা-সংক্রান্ত কনটেন্টও ওই তালিকায় রয়েছে।
সিডনিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জুলি ইনম্যান গ্র্যান্ট বলেন, কোনো প্ল্যাটফর্মকে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট সম্পর্কে অবহিত করা হলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া তাদের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি গত বছর সিডনির একটি সমুদ্রসৈকতে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিবন্ধিত টেলিগ্রাম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম। অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি মাসে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ এই সেবা ব্যবহার করেন।

টেলিগ্রাম, অস্ট্রেলিয়া, সন্ত্রাসবাদ


এ জাতীয় আরো খবর