শনিবার, আগস্ট ১, ২০২৬

'বৃষ্টির পর রঙধনুর গোপন বার্তা-দ্বিতীয় পর্ব'

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৭-৩০ ১৬:০৮:০৬
ফাইল ছবি

বন্ধুরা আজ প্রকাশিত হল পর্ব-৪৪। গত পর্বে রাহি, অরণ ও শিসু রঙধনুর জন্মের রহস্য জানতে শুরু করেছিল। আজ তারা বের হবে রঙধনুর শেষ প্রান্ত খুঁজতে। কিন্তু প্রকৃতি তাদের এমন একটি শিক্ষা দেবে, যা তারা কোনো বইয়ে পড়েনি।

রাহি ও অরণের সবুজ পৃথিবী
'প্রকৃতির গোয়েন্দারা'
পর্ব-৪৪: 

সকালের আকাশ ছিল একেবারে নীল।
কিন্তু দুপুরের পর হঠাৎ বৃষ্টি নামল।
বৃষ্টি থামতেই আবার দেখা দিল সেই রঙিন রঙধনু।

শিসু উত্তেজিত হয়ে বলল,
-'আজ আমরা রঙধনুর শেষ প্রান্ত খুঁজে বের করব!'

অরণ হেসে বলল,
-'চলো, দেখি সত্যিই ওখানে কী আছে।'

তিন বন্ধু মাঠ পেরিয়ে,সরু বাঁশের সাঁকো পার হয়ে,কাশবনের দিকে এগিয়ে চলল।
যতই তারা সামনে যায়, রঙধনুও যেন ততই দূরে সরে যায়।

রাহি থেমে বলল,
-'এ কেমন রহস্য?'

ঠিক তখনই বাতাসে বটপাতা দুলে উঠল।
বটদাদুর কণ্ঠ ভেসে এল,
-'কিছু সৌন্দর্য ধরার জন্য নয়,দেখার জন্য।'

শিসু একটু হতাশ হয়ে বলল,
-'তাহলে আমরা কি কখনো রঙধনুর কাছে পৌঁছাতে পারব না?'

বটদাদু মৃদু হেসে বললেন,
-'রঙধনু তোমার চোখের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে। তুমি যেখানে দাঁড়াও,সেখান থেকেই সে তার ছবি আঁকে। তাই সবাই নিজের নিজের রঙধনু দেখে।'

অরণ খাতায় লিখল,
'নতুন সূত্র-রঙধনুর কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই।'

ঠিক তখনই তারা দেখল,বৃষ্টির জলে ভেজা ঘাসের ওপর একটি ছোট শামুক ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে।

শিসু নিচু হয়ে বলল,
-'এত ধীরে চলে,তবু নিজের পথ হারায় না!'

রাহি মুচকি হেসে উত্তর দিল,
-'হয়তো প্রকৃতির সব প্রাণীই জানে,গন্তব্যে পৌঁছানোর চেয়ে পথটা ভালোবাসা বেশি জরুরি।'

এমন সময় দূরের ঝোপ থেকে একটি খরগোশ লাফিয়ে বেরিয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে গেল।

অরণ বিস্ময়ে বলল,
-'আজ মনে হচ্ছে, বৃষ্টির পরে পুরো প্রকৃতিই নতুন করে জেগে উঠেছে।'

ঠিক তখনই বিজ্ঞান শিক্ষক নাসির স্যার তাদের কাছে এসে দাঁড়ালেন।
তিনি হাতে একটি কাঁচের প্রিজম ধরে সূর্যের আলো তাতে ফেললেন।
মুহূর্তেই সাদা দেয়ালে ফুটে উঠল ছোট্ট একটি রঙধনু।

শিসুর চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
-'আকাশের রঙধনু নেমে এসেছে!'

স্যার বললেন,
-'আকাশের রঙধনু আর এই রঙধনুর জন্মের রহস্য একই। আলো নিজের ভেতরে অনেক রঙ লুকিয়ে রাখে।'

রাহি ধীরে ধীরে বলল,
-'তাহলে মানুষও কি আলোর মতো?'

সবাই অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।

রাহি আবার বলল,
-'আমাদের ভেতরেও তো অনেক ভালো গুণ লুকিয়ে থাকে। সুযোগ পেলে সেগুলোও একদিন রঙের মতো ফুটে ওঠে।'

বটদাদুর কণ্ঠে যেন গর্বের সুর।
-'এই তো আজকের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। প্রকৃতিকে বুঝতে বুঝতেই মানুষ নিজেকেও চিনতে শেখে।'

সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়েছে।
রঙধনু ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু আজ তিন বন্ধু জানল,রঙধনুর শেষ প্রান্তে কোনো গুপ্তধন নেই।
গুপ্তধন লুকিয়ে আছে কৌতূহলে,জ্ঞানে আর প্রকৃতিকে ভালোবাসার মধ্যে।

আজকের সবুজ প্রতিজ্ঞাঃ
আমি প্রকৃতির প্রতিটি দৃশ্যকে কৌতূহল নিয়ে দেখব,প্রশ্ন করব,জানব এবং সেই জ্ঞান অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।

সবুজ তথ্যঃ
রঙধনু কোনো নির্দিষ্ট স্থানে থাকে না। সূর্যের অবস্থান,বৃষ্টির ফোঁটা এবং দর্শকের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে রঙধনু দেখা যায়। তাই প্রত্যেক মানুষ আসলে নিজের অবস্থান থেকে একটি আলাদা রঙধনু দেখে।

চলবে...

বন্ধুরা,আগামীকাল পর্ব-৪৫-এ এই অধ্যায়ের আবেগঘন সমাপ্তি হবে। শিরোনাম হতে পারে 'রঙধনুর সাতটি প্রতিশ্রুতি'। সেখানে রঙধনুর সাতটি রঙকে কেন্দ্র করে রাহি, অরণ ও শিসু পরিবেশ রক্ষার সাতটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী অঙ্গীকার করবে। এটি শুধু একটি গল্প নয়,তোমাদের জন্য বাস্তব জীবনের একটি সুন্দর অনুপ্রেরণাও হবে।


এ জাতীয় আরো খবর