শনিবার, জুলাই ২৫, ২০২৬

কিউবার চিকিৎসক মিশনে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা,আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবায় উদ্বেগ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৬-০৭-২৪ ১১:১১:৫৭
ছবি: সংগৃহীত।

কিউবার দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় কিউবার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী হোসে অ্যাঞ্জেল পোর্তাল মিরান্দাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা ও মানবিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী পাঠিয়ে আসছে কিউবা। এই কর্মসূচি দেশটির অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রতিবছর কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় এনে দেয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি কিউবার ওপর চাপ বাড়াতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ খাতেও কিউবার বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ আরোপ করা হয়।
বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে দাবি করে, কিউবার বিদেশে চিকিৎসক পাঠানোর কর্মসূচি মূলত ‘জোরপূর্বক শ্রম’ এবং ‘মানবপাচারের’ শামিল। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কিউবার সরকার কঠোর আইন ও অর্থনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিদেশে কাজ করতে বাধ্য করে। পাশাপাশি চিকিৎসক গ্রহণকারী দেশগুলোর দেওয়া অর্থের বড় অংশ সরকার নিজেই গ্রহণ করে।
কিউবার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির প্রায় ২৪ হাজার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী বিশ্বের ৫৬টি দেশে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের অধিকাংশই দুর্গম ও স্বাস্থ্যসেবা-বঞ্চিত অঞ্চলে কাজ করছেন। হাভানার দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সরকারি হিসাবে, বিদেশে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রায় অর্ধেকই ভেনেজুয়েলায় দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহযোগিতা ঘনিষ্ঠ ছিল।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, কিউবার চিকিৎসা সহযোগিতা কর্মসূচির ওপর আঘাত মানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত।
অন্যদিকে আন্তঃআমেরিকান মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশে কর্মরত কিউবার চিকিৎসকেরা স্বাগতিক দেশগুলোর দেওয়া অর্থের মাত্র ২ দশমিক ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পারিশ্রমিক পান।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা শুধু কিউবার অর্থনীতিতেই নয়, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ কিউবার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নির্ভরশীল, তারা নতুন সংকটের মুখে পড়তে পারে।

কিউবা, নিষেধাজ্ঞা, চিকিৎসক


এ জাতীয় আরো খবর