শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬

সড়কে শৃংখলা ফেরাতে তারেক রহমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০২-১৫ ১২:৪৮:৫৬

বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে।আমরা আশা করবো এই সরকারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় হবে সবচেয়ে নজরকাড়া খাতগুলোর একটি। কারণ যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা, ভঙ্গুর অবকাঠামো ও প্রকল্প ব্যয়ের প্রশ্ন-সবই সরাসরি জনগণের জীবনে প্রভাব ফেলে।নতুন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বাস্তবসম্মত ও অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রথম কাজগুলোর একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হলো-

১. জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা জরুরি কর্মপরিকল্পনাঃ
-সারা দেশে দুর্ঘটনাপ্রবণ 'ব্ল্যাক স্পট' চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক সংস্কার কাজ শুরু
-ফিটনেসবিহীন বাস-ট্রাকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান
-হাইওয়ে পুলিশ ও বিআরটিএর যৌথ টাস্কফোর্স
-চালকদের বাধ্যতামূলক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

লক্ষ্য: ৬ মাসের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা কমপক্ষে ২০-২৫% হ্রাসের রোডম্যাপ।

২. বড় প্রকল্প অডিট ও ব্যয় স্বচ্ছতাঃ
-চলমান মেগা প্রকল্পের স্বাধীন কারিগরি ও আর্থিক অডিট
-প্রকল্প ব্যয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রকাশ
-ই-প্রকিউরমেন্ট বাধ্যতামূলক ও কন্ট্রাক্ট ডেটা উন্মুক্তকরণ

লক্ষ্য: 'ওভারকস্ট' ও বিলম্ব কমিয়ে আনা,জনআস্থা পুনর্গঠন।

৩. গণপরিবহন শৃঙ্খলা সংস্কারঃ
-মহানগরে রুট র‍্যাশনালাইজেশন বাস্তবায়ন
-ডিজিটাল টিকিটিং ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা
-কোম্পানি ভিত্তিক বাস পরিচালনা জোরদার
-নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানামা বন্ধে কঠোরতা

লক্ষ্য: রাজধানী ও বিভাগীয় শহরে দৃশ্যমান শৃঙ্খলা।

৪. সেতু ও মহাসড়কের রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকারঃ
-নতুন প্রকল্পের আগে বিদ্যমান অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট বৃদ্ধি
-টোল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল পেমেন্ট
-ভারী যানবাহনের ওভারলোড মনিটরিং জোরদার

লক্ষ্য: নির্মাণ নয়, টেকসই ব্যবস্থাপনা।

৫. গ্রামীণ সংযোগ ও অর্থনৈতিক করিডর উন্নয়নঃ
-কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য জেলা-উপজেলা সড়ক দ্রুত সংস্কার
-শিল্পাঞ্চল–বন্দর সংযোগ সড়ক অগ্রাধিকার
-সীমান্ত বাণিজ্য করিডর উন্নয়ন

লক্ষ্য: অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়ানো।

৬. প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাঃ
-স্মার্ট সিগন্যাল সিস্টেম
-সিসিটিভি মনিটরিং ও ই-চালান
-ডেটাভিত্তিক ট্রাফিক পরিকল্পনা

লক্ষ্য: যানজট কমাতে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত।

৭. জনসম্পৃক্ততা ও জবাবদিহিঃ
-মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ
-নাগরিক অভিযোগের জন্য হটলাইন ও অ্যাপ
-বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে পরামর্শ সভা

রাজধানীর জন্য বিশেষ উদ্যোগঃ
-অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান
-রাস্তার পাশে অবৈধ পার্কিংয়ে তাৎক্ষণিক জরিমানা
-ফুটপাত দখল উচ্ছেদে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট
-ফুটওভারব্রীজের উপরের দোকানপাট উচ্ছেদ
-ফুটওভারব্রীজ ও আন্ডারপাসগুলি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা
-প্রধান মোড়গুলিতে সমন্বিত ডিজিটাল সিগন্যাল
-কোম্পানি ভিত্তিক বাস পরিচালনা বাধ্যতামূলক
-নির্দিষ্ট রুটে নির্দিষ্ট সংখ্যক বাস
-নির্দিষ্ট স্থানে মাল্টি-লেভেল পার্কিং প্রকল্প

ফল: রাস্তার কার্যকর প্রস্থ বাড়বে ও যাতায়াতে শৃংখলা ফিরবে ।

সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গিঃ
নতুন মন্ত্রীসভা যদি দ্রুত দৃশ্যমান ফল দিতে চায়,তাহলে 'নতুন প্রকল্প ঘোষণা' নয়-নিরাপত্তা,শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা” হবে প্রথম বার্তা।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রথম সাফল্য হবে তখনই,যখন সাধারণ মানুষ বলবে-
রাস্তা নিরাপদ,যাতায়াত নির্বিঘ্ন আর প্রকল্পে অপচয় কমেছে।

লেখকঃ কলামিস্ট,সোস্যাল এক্টিভিস্ট,মহাসচিব-নিরাপদ সড়ক চাই। 


এ জাতীয় আরো খবর