সোমবার, জুলাই ২০, ২০২৬

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া 'টাইগার লাইটনিং ২০২৬': পেশাদারিত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা

  • মোঃ সোহেল
  • ২০২৬-০৭-২০ ০১:০৪:৪৭

বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং পারস্পরিক কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং ২০২৬’ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক মহড়াটি উভয় দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
​এই মহড়ায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ১৬০ জনেরও বেশি চৌকস সামরিক সদস্য অংশগ্রহণ করছেন। মহড়াটির মূল উদ্দেশ্য হলো পেশাগত দক্ষতা বিনিময়, কৌশলগত সমন্বয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবমুখী প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সম্মিলিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করা।
​প্রশিক্ষণের মূল বিষয়বস্তু
‘টাইগার লাইটনিং ২০২৬’-এর কার্যপরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। এতে জঙ্গলাঞ্চলে সফল অভিযান পরিচালনা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের আধুনিক কৌশল এবং যুদ্ধক্ষেত্রে আহতদের জরুরি চিকিৎসা সেবাসহ জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন বিষয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণ উভয় দেশের সেনাবাহিনীকে একে অপরের উদ্ভাবনী সামরিক কৌশলগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভে সহায়তা করবে।
​কূটনৈতিক গুরুত্ব ও লক্ষ্য
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সূচিত এই ‘টাইগার লাইটনিং’ মহড়াটি ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের ‘থিয়েটার আর্মি ক্যাম্পেইন প্ল্যান’ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা কর্মসূচির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোভিড-১৯ মহামারীর বিরতি কাটিয়ে গত পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক ও সফলভাবে এই মহড়া আয়োজিত হয়ে আসছে। এটি শুধুমাত্র সামরিক সক্ষমতাই বৃদ্ধি করে না, বরং দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যে গভীর কূটনৈতিক আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বার্তাও বহন করে।
​জনগণের জন্য স্বস্তির বার্তা
এই মহড়া আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো—আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর এই যৌথ পদযাত্রা দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আমাদের বাহিনীকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও আধুনিক করে তুলছে, যা সাধারণ মানুষের মনে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে এক অটল ভরসা ও স্বস্তির আবহ তৈরি করবে।
​দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তি বজায় রাখাই হলো এই ধরণের সামরিক কর্মকাণ্ডের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের কাজের এই উজ্জ্বলতা দেশবাসীর গর্বের কারণ হয়ে থাকবে।


এ জাতীয় আরো খবর