সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন না করে ‘স্বাস্থ্য সেবা সুরক্ষা আইন- ২০২৩’ কি কাজে লাগবে ?

  • ডাঃ বাহারুল আলম
  • ২০২৩-০৮-১৫ ২০:১২:০৩

চিকিৎসায় বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চিকিৎসক সোসাইটি ও মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসকদের  বাদ রেখে আমলা ও স্বাস্থ্য প্রশাসকদের নিয়ে ২৭ জুলাই/২০২৩ “স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন- ২০২৩” – এর খসড়ার উপর আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ ও কার্যকর হবে ?    
স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন- ২০২৩ এর খসড়ার মুখবন্ধে উল্লেখ আছে – সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন অত্যাবশ্যকীয় । বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে কতটা যুগোপযোগী ! এ নামকরণের কোন অর্থ দাঁড়ায় না।  দাবী ছিল কর্মস্থলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্তা। সেটাকে বাদ দিয়ে আমলাদের কারসাজিতে অর্থহীন নামকরণ করা হল। 
খসড়ায় দুটি অংশ উল্লেখ আছে , একটি স্বাস্থ্য সেবা ও আরেকটি সুরক্ষা । কিন্তু প্রশ্ন জাগে – 
*স্বাস্থ্য সেবা কার জন্য ? 
*সুরক্ষা আইন কার জন্য ? 
*কেন নূতন করে আইন প্রণয়নের প্রয়োজন দেখা দিল?  
*বর্তমানে স্বাস্থ্য সেবায় কোথায় ঘাটতি ? 
*কেন চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্য-কর্মীরা স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারছে  না ।  মুখবন্ধে তার উল্লেখ রেখে সমাধানের কথা বলা হয়নি। ।বিষয়টি স্বাস্থ্য নীতির আওতায় পড়ে - এর সাথে সরকারের অঙ্গীকার জড়িত। 
*যে রাষ্ট্রে স্বাস্থ্যনীতিই নাই সেখানে সুরক্ষা আইন প্রণয়নের হেতু কি ?  শূন্য মাঠে গোল দিয়ে সরকারের পক্ষে কৃতিত্ব নিতে চাচ্ছে সুচতুর আমলারা । অচিরেই গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন প্রয়োজন ।
অর্ধশত বছরে ১৬ কোটি জনগণ একটি স্বাস্থ্যনীতি পায়নি । আইন হওয়া উচিত – স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অঙ্গীকারে ব্যর্থতার জন্য জনগণের পক্ষ হতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে শাস্তি প্রদান। তাহলেই কেবল স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত হবে । সরকারের কর্তাব্যক্তিরাই এদেশে চিকিৎসা নেয় না – সর্দি হলেও ডলার ব্যয় করে বিদেশে চলে যায় । আইন করে এসব নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন ।
*চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও  প্রান্তিকের জনগণের যে বৈষম্য- কঠোর আইন করে সেগুলো বন্ধ করা উচিত । 
*স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক সহ জনবল , ঔষধ পত্র , অবকাঠামো , রোগ নির্ণয়ের সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি ও টেকনোলজিস্ট - এসব নিশ্চিত করার জন্য কঠোর আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। 
*হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ঐ অঞ্চলের জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে না হওয়া – আইনে শাস্তি যোগ্য অপরাধ বলে ঘোষণা থাকা উচিত । 
*শয্যাসংখ্যার আনুপাতিক হারে নার্স , চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল ও রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা না থাকা শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনা প্রয়োজন । 
*সরকারি , বেসরকারি সকল চিকিৎসকের পোস্ট গ্রাজুয়েশনে প্রয়োজনীয় ভাতা সহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরিতে আমলাদের হস্তক্ষেপ বিলুপ্ত করে উন্মুক্ত রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর ছেড়ে দিতে হবে । আইন যেন তার অনুকূলে থাকে । 
*স্বাস্থ্য সেবায় আমলাদের হস্তক্ষেপ আইন করে বন্ধ করতে হবে এবং তদস্থলে “কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয়” প্রতিষ্ঠা আইন করতে হবে। এক কথায় বলা যায় – চিকিৎসক , নার্স , ওয়ার্ডবয় , আয়া  চিকিৎসা ও সেবার জন্য যা যা প্রয়োজন ,  সেসব নিশ্চিত সরবরাহের আইন করতে হবে । অন্যথায় স্বাস্থ্য সেবার নামে রাষ্ট্রের প্রহসন চলতেই থাকবে এবং সকল দায় পড়বে চিকিৎসকদের উপর । 
*স্বাস্থ্যনীতি না করে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সেবাকে যথার্থ ধরে নূতন আইন প্রণয়ন এবং সেটাকে যুগোপযোগী বলা – জনগণ ও চিকিৎসকের প্রতি চরম হঠকারিতা । খসড়া পড়লেই বোঝা যায় – এটি আমলাদের তৈরি । চিকিৎসক ও জনগণের কোন মতামত নাই । 
*বিএমএ ও নন- ক্লিনিক্যাল ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও চিকিৎসক সোসাইটি গুলোর মত দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সেবায় বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে। খসড়া আইন প্রণয়নে ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চিকিৎসক সোসাইটি-র অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন ছিল। তাদের বাদ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় বাস্তব অভিজ্ঞতাহীন কিছু দাপ্তরিক প্রধানদের ডেকে খসড়া আইনের উপর মতামত নিলে কোন ফলাফল বেরিয়ে আসবে না । যা আসবে তা কেবল  ‘নিয়মরক্ষা’ হবে । আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে এ ধরণের আয়োজন এবং রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় । 

 


এ জাতীয় আরো খবর