মাহফুজ উল্লাহ শুধু বাংলাদেশের খ্যাতিমান সাংবাদিকই ছিলেন না তিনি ছিলেন একাধারে লেখক, কলামিস্ট, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও পরিবেশবিদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর ছিলেন।
প্রবীণ এ সাংবাদিক ও কলামিস্ট নোয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরামের উপদেষ্টা ছিলেন। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম পরিবেশ সাংবাদিকতা শুরু করেন। এজন্য তাঁকে পরিবেশ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ বলা হতো।
জন্ম ১৯৫০ সালের ১০ মার্চ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত পরিবারে।
তাঁর পিতার নাম হাবিবুল্লাহ এবং মাতার নাম ফয়জুন্নেসা বেগম। ভারতীয় উপমহাদেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত কমরেড মজফ্ফর আহমেদ কাকাবাবুর দৌহিত্র তিনি।
ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজ উল্লাহ সাংবাদিকতা পেশায় নিবেদিত হন। বাংলাদেশের একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় 'সাপ্তাহিক বিচিত্রা'র জন্মলগ্ন থেকে কাজ করেছেন মাহফুজ উল্লাহ।
১৯৭২ সালে 'তিনি সাপ্তাহিক বিচিত্রা'য় যোগ দেন। বর্ণাঢ্য দীর্ঘ্য সাংবাদিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে সন্মানের সঙ্গে কাজ করেছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি শিক্ষকতাও করেছেন তিনি। চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাসে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন।
মৃত্যুর পূর্বে তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মাহফুজ উল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবনে তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ষাটের দশকে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। ছাত্র রাজনীতির কারণে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনামলে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হন মাহফুজ উল্লাহ।
এরপর সে সময় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। বাম রাজনীতি দিয়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু করলেও বেশ কয়েক বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। যে কারণে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে।
রেডিও ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে সরব উপস্থিতি ছিল মাহফুজ উল্লাহর। বেশ কয়েকটি রেডিও ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তাঁকে উপস্থাপনাও করতে দেখা গেছে।
তিনি 'সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট' নামে একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন সক্রিয় পরিবেশবিদ এবং বাংলাদেশে তিনিই পরিবেশ সাংবাদিকতার সূচনা করেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৫০ এর অধিক বই লিখেছেন মাহফুজ উল্লাহ। বইগুলো আর্ন্তজাতিকভাবে খ্যাতিলাভ করেছে।
সেগুলোর অধিকাংশই বিশ্বের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে সংগৃহীত আছে।
তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো - বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী, যাদুর লাউ, যে কথা বলতে চাই, অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন: গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১), উলফা ও অ্যাসোসিয়েশন ইন আসাম, বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ হার স্টোরি উল্লেখযোগ্য।
২৭ এপ্রিল ২০১৯ সালে তিনি পরলোকগমন করেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি।