সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

স্মরণ-দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৩-৩০ ২৩:৪৬:৪৯

দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার বাংলা ভাষার রূপকথার প্রখ্যাত রচয়িতা এবং সংগ্রাহক। তাঁর সংগৃহীত জনপ্রিয় রূপকথার সংকলনের নাম ঠাকুরমার ঝুলি। 
জন্ম ১৫ এপ্রিল ১৮৭৭ সালে ঢাকার অদূরে সাভার জেলার উলাইল গ্রামে। তাঁর মাতার নাম কুসুমময়ী ও পিতার নাম রমদারঞ্জন মিত্র মজুমদার। 
১৮৮৭ সালে দশ বছর বয়সে তাঁকে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেওয়া হয় ঢাকার কিশোরীমোহন হাইস্কুলে। 
পরে ১৮৯৩ সালে তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি হন। 
এ দুটি স্কুলে পড়ালেখায় ভালো করতে না পারায় টাঙ্গাইলে তাঁর পিসীমা রাজলক্ষ্মী চৌধুরানীর কাছে রেখে টাঙ্গাইলের সন্তোষ জাহ্নবী হাইস্কুলে ভর্তি করে দেয়া হয়। 
এই স্কুলের বোর্ডিংএ থেকে তিনি দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। কিন্তু পিতার হঠাৎ সিদ্ধান্তে টাঙ্গাইল ছেড়ে ১৮৯৭ সালে বহরমপুর হাইস্কুলে দশম শ্রেণীতে ভর্তি  হন। এই স্কুল থেকেই ১৮৯৮ সালে প্রথম বিভাগে তিনি এনট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
এন্ট্রান্স পাসের পর দক্ষিণারঞ্জনকে বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজে এফ এ ক্লাসে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু তিনি পড়ালেখা শেষ করেননি।
‘ঠাকুরমার ঝুলি’ ১৯০৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে দক্ষিণারঞ্জনের লেখা ও সংগৃহীত রূপকথা কলকাতার কিছু পত্রিকায় ছাপা হয়। 
‘ঠাকুরমার ঝুলি’র পাণ্ডুলিপির প্রকাশক না পেয়ে নিজের অর্থেই প্রকাশে উদ্যোগী হন দক্ষিণারঞ্জন। 
এ সময় দীনেশচন্দ্র সেনের সাথে যোগাযোগ ঘটে তাঁর। পরে তাঁর উদ্যোগেই সেকালের বিখ্যাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ভট্টাচার্য অ্যান্ড সন্স থেকে ১৯০৭ সালে গ্রন্থাগারে প্রকাশিত হয় ‘ঠাকুরমার ঝুলি’।
ঠাকুরমার ঝুলি’র চিত্রসমূহ দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের আঁকা। প্রথম প্রকাশে ঠাকুরমার ঝুলির ভূমিকা লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
তাঁর অন্যান্য বই মা বা আহুতি, ঠাকুরমার ঝুলি, আর্যনারী (প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ, চারু ও হারু, দাদা মশাইয়ের থলে, খোকাখুকুর খেলা, আমাল বই, সরল চন্ডী, পুবার কথা, ফার্স্ট বয়, উৎপল ও রবি, কিশোরদের মন, কর্মের মূর্তি, বাংলার সোনার ছেলে, সবুজ লেখা, চিরদিনের রূপকথা, আশীর্বাদ ও আশীর্বাণী ইত্যাদি। 
‘চারু ও হারু’ সম্ভবতঃ বাংলা ভাষায় প্রথম কিশোরদের জন্য উপন্যাস। এছাড়া ১৯০১ সালে তিনি ‘সুধা’ নামে একটি মাসিক সাময়িক পত্রিকা নিজ সম্পাদনায় প্রকাশ করেন। 
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ছবি আঁকতেন, ঠাকুরমার ঝুলি’র ছবিগুলো তাঁর আঁকা। এছাড়াও বাসগৃহে কাঠের উপর খোদাই কর্মে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। 
১৯৫৬ সালের ৩০ মার্চ কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্যসূত্রঃ 'দৈনিক ইত্তেফাক'
 

 


এ জাতীয় আরো খবর