সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

স্মরণ-কাজী ইমদাদুল হক

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৩-২০ ১৬:৪৩:১১

কাজী ইমদাদুল হক শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
জন্ম ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে। পিতা কাজী আতাউল হক প্রথমে আসামে জরিপ বিভাগে চাকরি করতেন পরে খুলনার ফৌজদারি আদালতে মোক্তার হন।
ইমদাদুল হক ১৯০০ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এর দীর্ঘকাল পরে ১৯১৪ সালে তিনি বিটি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করেন।
১৯০৪ সালে কলকাতা মাদ্রাসায় অস্থায়ী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯০৬ সালে তিনি আসামের শিলং এ শিক্ষা বিভাগের উচ্চমান সহকারি হন। পরের বছর তিনি ঢাকা মাদ্রাসার শিক্ষক নিযুক্ত হন।
১৯১১ সালে ঢাকার টিচার্স ট্রেনিং কলেজে ভূগোলের অধ্যাপক, ১৯১৪ সালে ঢাকা বিভাগের মুসলিম শিক্ষার সহকারি স্কুল পরিদর্শক এবং ১৯১৭ সালে কলকাতা ট্রেনিং স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন।
১৯২১ সালে নবপ্রতিষ্ঠিত ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের প্রথম কর্মাধ্যক্ষ হয়ে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত উক্ত পদে বহাল ছিলেন।
১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক'। পত্রিকাটি তিন বছর চালু ছিল। তিনি কবিতা,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিক্ষা ও নীতিমূলক  শিশুসাহিত্য রচনায় খ্যাতি অর্জন করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ - আঁখিজল, মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা, ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু'ভাগ), নবীকাহিনী, প্রবন্ধমালা, কামারের কান্ড ও আবদুল্লাহ।
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি। এতে তৎকালীন মুসলিম সমাজের নানা দোষত্রুটি অতি দক্ষতার সাথে তিনি তুলে ধরেন।
বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য। তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
অত্যন্ত যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব পালন করায় সরকার তাঁকে ১৯১৯ সালে ‘খান সাহেব’ এবং ১৯২৬ সালে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে। 
১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তথ্যসূত্রঃ 'দেশে বিদেশে'

 


এ জাতীয় আরো খবর