সোমবার (১৭ জুন) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। মালবাহী ট্রেনের ধাক্কায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছনের দুইটি বগি দুমড়েমুচড়ে গেছে। এতে তাৎক্ষণিক পাঁচজনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে, যা আরও বাড়তে পারে। এছাড়াও বহু যাত্রী আহত হয়েছেন। হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।
শিয়ালদহের দিকে যাওয়ার পথে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর।
ঘটনাস্থল থেকে দার্জিলিং পুলিশের অ্যাডিশনার এসপি অভিষেক রায় বলেন, ‘‘কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছনে মালগাড়ি ধাক্কা মেরেছে। পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ২৫ থেকে ৩০ জন আহত। সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

তিনি জানান, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল। গ্যাসকাটার দিয়ে কেটে মালগাড়ির ইঞ্জিন বের করতে হবে।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে একটু দূরে অস্থায়ীভাবে আহতদের নিয়ে গিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে পাঠানো হবে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, শিলিগুড়িতে সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি চলছে। তার মাঝে এই দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে। যে লাইনে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির সঙ্গে রেল যোগাযোগের প্রধান লাইন সেটাই। ফলে আপাতত দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে সোমবার সকালে নির্ধারিত সময়েই রওনা দিয়েছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস। নীচবাড়ি এবং রাঙাপানি স্টেশনের মাঝে দুর্ঘটনা ঘটে। পেছন দিক থেকে একটি মালগাড়ি এসে ওই ট্রেনে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতায় কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের পেছন দিক থেকে পর পর দু’টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পাশে ছিটকে পড়ে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনা নিয়ে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে উদ্বেগ প্রকাশ করে পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, ‘‘এই মাত্র দার্জিলিংয়ের ফাঁসিদেওয়া এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেলাম। বিশদে এখনও জানতে পারিনি। কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে মালগাড়ি ধাক্কা মেরেছে শুনেছি। জেলাপ্রশাসক, এসপি, চিকিৎসক এবং অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হচ্ছে।’