হলুদ সবুজে ভরা প্রকৃতি যেনো নতুন যৌবনের উদ্যমে মত্ত,
দক্ষিণ দ্বারে কে নাড়ে কড়া!
কে এলো এই অবেলায়!
সেও বুঝি আমার মতন একলা নদী,
একা যাচ্ছে বয়ে নদীর পার ঘেঁষে।
মাঝে মাঝে থমকে দাঁড়ায়,
চেয়ে থাকে আনমনে,
বসন্তের পাতাঝরা খেলায়।
তুমি তো আমার সেই পথিক,
যে উন্মাদনায় ছুটে বেড়ায়,
কবিতার খাতা হাতে,
রঙের তুলি হাতে,
এখন যে কৃষ্ণচূড়া রাধাচূড়ার
লাল হলুদের ছোঁয়ায় পূর্ণ বসন্ত,
তাই কবির কলম লিখে চলে
" আজি দখিন দুয়ার খোলা,
এসো হে, আমার বসন্ত এসো"।
রাঙামাটির হাটে নাম না জানা
কোন এক অজ্ঞাত শিল্পী যত্নে
তুলি বোলায় বসন্তের গোধূলির আকাশে।
বাউল গেয়ে চলে একতারা বাজিয়ে
" কোথাও আমার মনের মানুষ পেলাম না "।
তবুও ক্ষণিকের মোহে ধরা দেয় যে
সে কে!
সে কি সত্যি হৃদয় বীণায় বাজায় বসন্ত বাহার রাগ!
সন্ধ্যায় খরের চালের চায়ের দোকানে মাটির ভাঁড়ে
প্রেমিক প্রেমিকার ঠোঁট ডোবানো উষ্ণ চায়ে মাঝে,
খুঁজে নেয় উষ্ণতার ছোঁয়া।
জীবনের বেড়াজালে কোথায় হারায় সেই উষ্ণতা,
তবুও আসে বসন্ত নিত্য নতুন রূপে,
স্নিগ্ধতার অতল স্পর্শে জেগে ওঠে প্রেম
হয়তো এখন গোধূলির আকাশ,
পশ্চিম আকাশে রয়েছে এখনো দিন শেষের শেষ রবি,
হায়, এতো যন্ত্রণা, এতো বেদনা, তবুও ভালোবাসা পিপাসিত মন
ভালোবাসা খোঁজে বসন্তের শেষ বিকেলের ছোঁয়ায়।