ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যুতে নতুন করে বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে ইসরাইল নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে বলে ওবামার মন্তব্যের পর তার সমালোচনা করেছেন নেতানিয়াহু। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে এ বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার বেলফাস্টে এক অনুষ্ঠানে ওবামা বলেন, ইসরাইলের সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যতই বেশি হোক, সংঘাতের অবসানে শক্তিশালী পক্ষের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তার মতে, নিরাপত্তার অজুহাতে ইচ্ছামতো পদক্ষেপ নেওয়া কিংবা কোনো সমঝোতায় যেতে অস্বীকৃতি জানানো স্বল্পমেয়াদে কার্যকর মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ইসরাইলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলা চালানো ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসেরও সমালোচনা করেন ওবামা। তবে তার বক্তব্যে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতির ইতিহাসের প্রসঙ্গও উঠে আসে।
ওবামা বলেন, ইউরোপে দীর্ঘদিন ধরে ইহুদিদের নিপীড়ন, বৈষম্য ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে। হলোকাস্টের ভয়াবহতার পর ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকা ভূখণ্ডে আশ্রয় খোঁজার বিষয়টি বোধগম্য। তবে একই ভূখণ্ডে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও ভূমি হারানোর বিষয়টিও অস্বীকার করা যায় না। ফিলিস্তিনিরা এ ঘটনাকে অবিচার হিসেবে দেখে নিজেদের ভূমি ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ওবামার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে নেতানিয়াহু তার মন্তব্যের সমালোচনা করেন। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ইহুদিরা তাদের পূর্বপুরুষের ভূমিতে বহিরাগত দখলদার নয় এবং ইসরাইলের ইতিহাসকে ঔপনিবেশিক প্রকল্প হিসেবে দেখা যায় না। তিনি ওই ভূখণ্ডকে ইহুদিদের মাতৃভূমি হিসেবে উল্লেখ করেন।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যে ব্যবহৃত ‘জুদেয়া’ নামটি বাইবেলীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বর্তমান পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চল বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরাইল পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
ওবামার সঙ্গে নেতানিয়াহুর বিরোধ নতুন নয়। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওবামার প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুজনের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। ইরান ইস্যুতে ওবামা প্রশাসনের নীতির বিরোধিতা করতে নেতানিয়াহু সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান নেতাদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত নেতানিয়াহু আসন্ন নির্বাচনের প্রচারে বিদেশি পক্ষের বিরোধিতার প্রসঙ্গও তুলে ধরছেন। এ ক্ষেত্রে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সমালোচনাও করেছেন তিনি। মামদানি ইসরাইলের নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
নেতানিয়াহু, বারাক ওবামা, ফিলিস্তিন