শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২৬

কৃষিকে লাভজনক করতে সংরক্ষণ ও গবেষণায় জোর রাষ্ট্রপতির

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-১০-১৫ ১৪:১৭:৩৮
ছবি: সংগৃহীত।

কৃষিকাজে আয় কম হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কৃষিকে লাভজনক খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেছেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন।
আজ সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি বদলাতে সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং এ কাজে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
উত্তরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদিত হলেও কৃষকরা অনেক সময় ন্যায্য দাম পান না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দাম না পেয়ে কোনো কোনো কৃষক আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পরও আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। একই সমস্যা দেখা যায় অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও।
আলু, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য আধুনিক হিমাগার এবং সংরক্ষণ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
পেঁয়াজ উৎপাদনে গবেষকদের সাফল্যের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতো। বর্তমানে আমদানির প্রয়োজন না থাকার বিষয়টি ইতিবাচক অগ্রগতি। ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলোর সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এর ফলে মাটির ক্ষতি হচ্ছে এবং ফসলের গুণগত মানও নষ্ট হচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃষি বিজ্ঞানীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যথাযথ সুযোগ না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে কৃষিমন্ত্রীর প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করেন। খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের কৃষিতে পরিবর্তন এনেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করার পাশাপাশি আহতদের সুস্থতা কামনা করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, বারির মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার প্রদান করে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানের জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন তিনি।

কৃষি উন্নয়ন, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ, কৃষি গবেষণা


এ জাতীয় আরো খবর