সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি শাসন জারি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-১২ ০০:২০:১৩
ছবি: সংগৃহীত।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জরুরি শাসন জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকদের সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং প্রদেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধির মধ্যে রোববার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির দপ্তর জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর সুপারিশের ভিত্তিতে তিনি জরুরি ব্যবস্থা অনুমোদন করেন। সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় নেওয়া এ পদক্ষেপে প্রদেশটির ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দপ্তর বলেছে, প্রদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রাদেশিক সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতারা এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।
পিটিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি শাসন জারির ফলে দলটির নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পিটিআই চেয়ারম্যান গোহর আলী খান এ সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক ও গুরুতর রাজনৈতিক ভুল বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণ নিজেদের অধিকারের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ মেনে নেবে না।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে প্রদেশটির বিভিন্ন শহরে মিছিল ও দীর্ঘ পদযাত্রা করছেন তাঁর সমর্থকেরা। ৪ অক্টোবর সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আন্দোলন আরও জোরালো হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ইমরান খানকে তাঁর চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে।
একসময় পাকিস্তানের জনপ্রিয় ক্রিকেট তারকা ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতায় উসকানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। ইমরান খান ও তাঁর আইনজীবীরা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, তাঁর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা কমানোর উদ্দেশ্যে মামলাগুলো করা হয়েছে।
এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়া ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তানে সশস্ত্র হামলা বৃদ্ধির জন্য আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতাকে দায়ী করছে পাকিস্তান। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উল্টো পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগান সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন ও বেসামরিক মানুষ হত্যার অভিযোগ তুলেছে তারা।
দুই প্রতিবেশী দেশের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সীমান্ত পরিস্থিতিও উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের পর মার্চে যুদ্ধবিরতি হলেও স্থায়ী নিরাপত্তা সমাধান হয়নি। এরপরও দুই দেশের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

পাকিস্তান জরুরি শাসন, ইমরান খান, খাইবার পাখতুনখোয়া


এ জাতীয় আরো খবর