সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬

ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ভারতে

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-১২ ০০:০৩:১৭
ছবি: সংগৃহীত।

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে অনলাইনভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বড় বিক্ষোভের প্রস্তুতির মধ্যে আটক হওয়ার পর মুক্তি পেয়েই রোববার সংগঠনটির নেতারা এ ঘোষণা দেন।
নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস বলেন, আন্দোলন থেকে তাঁরা সরে দাঁড়াবেন না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। জনগণকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এই নেতা।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এবং আরও দুই নেতাকে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার পর আটক করা হয়। রোববার তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। আন্দোলনকারী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার থেকে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। রোববারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট সমাবেশ থেকে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করতে দেখেছেন বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা।
বিক্ষোভ ঘিরে শনিবার দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। মেট্রোর কয়েকটি স্টেশন বন্ধ রাখা হয়, ২০০টির বেশি ট্রেনের চলাচল বন্ধ করা হয় এবং কয়েকটি এলাকায় জনসমাবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রোববার মেট্রো স্টেশনগুলো আবার চালু হলেও রাজধানীজুড়ে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়।
ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করেই এ আন্দোলনের সূত্রপাত। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশোধনের ফলে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম নির্বাচনি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে মুসলিমরা অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, একাধিকবার থাকা নাম, মৃত ভোটারদের নাম ও ভুয়া তথ্য বাদ দেওয়াই সংশোধনের উদ্দেশ্য।
আটক ও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের বিষয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রোববার নির্দেশ দিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত বিক্ষোভকারীদের যেন বেআইনিভাবে আটক করা না হয়। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আটক করতে হবে। আদালত ইন্টারনেট সংযোগ স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর দিল্লিতে ইচ্ছামতো আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে। বিরোধী কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও গণতন্ত্রে বিশ্বাসীদের সঙ্গে নিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দিকে পদযাত্রার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
গত মে মাসে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করা সিজেপি অল্প সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অনুসারী অর্জন করেছে। ভোটার তালিকা সংশোধন, আটক এবং বিক্ষোভে বিধিনিষেধ—সব মিলিয়ে সংগঠনটির আন্দোলন মোদি সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

ভারত নির্বাচন, ভোটার তালিকা, সিজেপি আন্দোলন


এ জাতীয় আরো খবর