শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কার্সন

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-০৮ ১৯:৩১:৫৬
ফাইল ছবি

কানাডীয় কবি,লেখক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সুইডেনের স্টকহোমে সুইডিশ একাডেমি এ বছরের বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে।
নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, সাহিত্যে তাঁর সাহসী ও উদ্ভাবনী সৃষ্টিকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ধ্রুপদি সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মধ্য দিয়ে তিনি সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ নির্মাণ করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া অ্যান কার্সন কবিতা, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও ধ্রুপদি সাহিত্যচর্চার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য, ভাষা ও পুরাণের প্রভাব গভীরভাবে লক্ষ করা যায়। কবিতা রচনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা এবং অনুবাদের কাজও করেছেন তিনি।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, কার্সনের সাহিত্যকর্মের বড় বৈশিষ্ট্য হলো শব্দের প্রতি গভীর অনুসন্ধিৎসা এবং নতুন অর্থের সন্ধান। ভাষার শব্দমূল ও প্রাচীন সাহিত্যিক উপাদানকে তিনি সমকালীন চিন্তা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে অটোমোবায়োগ্রাফি অব রেড, দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড, ডিক্রিয়েশন ও ইরোস দ্য বিটারসুইট।
২০২৫ সাল পর্যন্ত সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ১১৮ বার এবং মোট ১২২ জন সাহিত্যিক এ সম্মান পেয়েছেন। এর মধ্যে চারবার পুরস্কার দুইজনের মধ্যে ভাগ হয়েছে। সাহিত্যে সবচেয়ে কম বয়সে নোবেল পাওয়ার রেকর্ড ব্রিটিশ লেখক রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের-১৯০৭ সালে ৪১ বছর বয়সে তিনি এ পুরস্কার পান। সবচেয়ে বেশি বয়সে পুরস্কার পাওয়া সাহিত্যিক ডোরিস লেসিং; ২০০৭ সালে ৮৭ বছর বয়সে তিনি নোবেল পান।
১৯০৯ সালে সুইডিশ লেখিকা সেলমা ল্যাগেরলফ প্রথম নারী হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার হান কাং এ তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হন। অ্যান কার্সন এবার ১৯তম নারী হিসেবে সাহিত্যে নোবেলজয়ী হলেন।
১৯০১ সালে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পান ফরাসি কবি সুলি প্রুদোম। ১৯১৩ সালে প্রথম অ-ইউরোপীয় ও প্রথম এশীয় হিসেবে এ পুরস্কার পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের ঘটনাও রয়েছে। ১৯৫৮ সালে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে বরিস পাস্তেরনাক পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি। আর ১৯৬৪ সালে ফরাসি দার্শনিক ও সাহিত্যিক জঁ-পল সার্ত্র নিজের নীতিগত অবস্থান থেকে স্বেচ্ছায় পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন।
গত বছর, ২০২৫ সালে হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন। তাঁর সর্বনাশের আতঙ্কের মধ্যেও শিল্পের শক্তিকে পুনর্ব্যক্ত করা দূরদর্শী সাহিত্যকর্মের জন্য তাঁকে ওই পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রথা অনুযায়ী, আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অ্যান কার্সনের হাতে নোবেল পদক, সনদ ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে। ২০২৬ সালের পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা।

অ্যান কার্সন, নোবেল পুরস্কার, সাহিত্য


এ জাতীয় আরো খবর