শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬

পানি নিরাপত্তায় ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার জলপথ খননের পরিকল্পনা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-১০-০৩ ১০:১২:২০
ছবি: সংগৃহীত।

পানি নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় শুরু হওয়া বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩ থেকে ৫ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানি ব্যবস্থাপনার এসব উদ্যোগ কৃষিখাতকে সহায়তা করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। এর আগে সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
বক্তব্যে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে। উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় পরিবার, কৃষক ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা ও সেবা আরও সমন্বিতভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে রোগীকে উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা জোরদার করতে ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের কাজ চলছে। তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে আনন্দময় পরিবেশ, চরিত্র গঠন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং প্রথম শ্রেণি থেকে বিনামূল্যে পোশাক, স্কুলব্যাগ, মধ্যাহ্নভোজ ও বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের অগ্রগতির অন্যতম শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোগে সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
কৃষিকে অর্থনীতির ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি সেচ, কৃষি অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ সহজ করার কথা বলেন। পাশাপাশি মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করা হবে। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষার পাশাপাশি আইনের শাসন নিশ্চিত করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখনো প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন। সংকটের মূল কারণ মিয়ানমারে হওয়ায় এর সমাধানও সেখানেই হতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রবন্দর, নৌপথ, মৎস্য, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন। বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্রসম্পদ নিয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধায় বিশ্বাসী। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যেতে চায় বাংলাদেশ।

পানি নিরাপত্তা, ২০ হাজার কিলোমিটার, বঙ্গোপসাগর সম্মেলন


এ জাতীয় আরো খবর